সর্বশেষ

নিশিরাতের সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়-শামীম

বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, সন্ত্রাসী দল নয়-ডা. শাহাদাত

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ভোটবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির এক দফার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ও শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জনগণ। আজ শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে ভাইরাল হয়েছে। ‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ লিখে পোস্ট দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ব দরবারে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, নিশিরাতের সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
মাহবুবের রহমান শামীম আজ সোমবার ৩১ জুলাই ঢাকায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩ টায় নগরীর কাজীর দেউড়ি নুর আহম্মদ সড়কে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে জন সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।সভা শুরুর কিছু পর শুরু হয় বৃষ্টি, কিন্তু নেতা কর্মীরা সরেনি সভাস্থল থেকে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. মাহাদাত হোসেন এর সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আবুল হাসেম এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিরেন,বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান,মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এস এম এস কে খোদা তোতন, এরশাদ উল্লাহ, শামসুল আলম, এডভোকেট আবদুস সত্তার, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন,  মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান,  আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল,এনামুল হক এনাম, এডভোকেট ইফতেকার হোসেন চৌধুরী মহসিন,আনোয়ার হোসেন লিপু, বিভাগীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর যুবদলের সভাপতি
মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের
সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী প্রমুখ।

তিনি বলেন, ঢাকায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হলো। যা সব গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশ পেয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো যাদের ওপর হামলা করা হলো তাদেরই আসামি করে মামলা করল পুলিশ।সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের খবরই জনগণের মুখে মুখে। শেখ হাসিনা আরেকটি ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচন করার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ তা হতে দিবে না বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন,এক বছরে রাজপথে ১৭ জনকে হত্যা করেছেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গতকাল শনিবার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে পুরো রাজধানীকে রক্তে রঞ্জিত করেছেন সরকার।তার পরেও তাদের মিত্যাছার বন্ধ হয়নি।তিনি আটককৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। সন্ত্রাসী দল নয়। বরং আওয়ামী লীগই হচ্ছে আগুন সন্ত্রাসীদের দল। তারা ২০০৬ সালে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সাপের মতো লাঠি দিয়ে মানুষ মেরেছে। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে ১৭ জন মানুষকে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। চট্টগ্রামে বিমান অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা জালিয়ে দিয়েছিল। কাজেই আগুন সন্ত্রাসী দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ।আওয়ামীলীগকে এখন দেশে বিদেশে বয়কট করা হচ্ছে। মন্ত্রীরা এখন উল্টাপাল্টা কথা বলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে চান এটা এখন জনগণ বুঝে গেছে। তাই কিভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় হবেন সেই চিন্তা করুন। অন্যথায় জনগণ গদি থেকে টেনে নামাবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সারাদেশে চলছে। সেটা আরো বেগবান করতে হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ অবৈধ সরকারের পতন হবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনকে বন্ধ করা যাবে না। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরে যেতে হবে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে এই দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন