চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, জিয়া পরিবার খুনি পরিবার। এই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। এই পরিবারেই বাংলাদেশে ৭১ এর পরাজিত শক্তির প্রতিভূ ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছে। এমনকি যত্রতত্র অর্থ ছিটিয়ে রাজনীতিকে কুলোষিত করেছে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে জনগণকে জিম্মি করে দেশকে লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। জাতি তাদের কলংকিত ইতিহাস কোনদিন ভুলে যাবে না। তাই তাদের অবৈধ ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা কোনদিন সফল হবে না।
তিনি আজ শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনোপলক্ষে বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত অক্সিজেন মোড় চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, মহল বিশেষ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছে এবং জোর করে ক্ষমতায় বসার পায়তারা করছে। এমনকি দেশের একজন কথিত সুশীল নেতা যিনি নোবেল পুরস্কারও হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি এখন তার বিদেশী বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে বিবৃতি ভিক্ষা করছেন। এটা একটি অশুভ সংকেত। তাই এই সংকেত আমরা বুঝতে পেরে তাদেরকে লাল কার্ড দেখাতে চাই।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, যেসব দেশে প্রতিদিন মানবাধিকার হরন করা হয় এবং অন্যদেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর চক্রান্ত হয় ও জঙ্গীবাদ উত্থানের প্রত্যক্ষ ইন্ধন যোগায় সেকল দেশ যদি আমাদের দেশে মানবাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং মিথ্যাচার করে তাহলে ঐ সমস্ত দেশের সাথে কোন ধরণের সম্পর্ক ও সংশ্রোপ থাকতে পারে না। এই কথিত পরাক্রমশালী দেশ কুটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায় এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার অপচেষ্টা চালায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়াটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন- নোবেল জয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুছের স্বার্থ রক্ষায় তার বন্ধু-বান্ধবী ১৬০জন কথিত বিশ্বনেতা বিবৃতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত বিচারাধীন মামলা স্থগিত করার বায়না করছেন তারা কি জানেন না এটা বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার উপর একটি বড় ধরণের আঘাত? ড. ইউনুছ বাংলাদেশ সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে চাকরী করে সরকারি খাত থেকে বেতন তুলতেন। অথচ তিনি একই সময় বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন এবং অধিকাংশ সময় সেখানেই কাটান। এই বিষয়টি কি বিবৃতিদাতারা ভেবে দেখেছেন। তারা ড. ইউনুছের স্বার্থ রক্ষায় প্রদত্ত বিবৃতিতে মামলা স্থগিত করার কথা বললেও এই মামলা সরকার দায়ের করে নি।
মামলাটি করেছেন ড. ইউনুছের পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীরা শ্রম আদালতে। তাদের অভিযোগ ড. ইউনুছ শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা ২৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ প্রদান না করে সেগুলো আত্মসাৎ করেছেন। তাই সহজেই অনুমেয় ইউনুছের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি চিহ্নিত আন্তর্জাতিক কুচক্রী মহল বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ, বিচারালয় ও শ্রম আইনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে। এইটাও একটি বড় ধরণের আন্তর্জাতিক অপরাধ।
এই অপরাধের জন্য বিবৃতিদাতাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তিনি বিশ্ব বিবেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল নবী লেদুর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মহিউদ্দিন বাচ্চু, নির্বাহী সদস্য মহব্বত আলী খান, জাফর আলম চৌধুরী, থানা আওয়ামী লীগের সামশুল আলম, কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শাহজাহান রশিদ, কফিল উদ্দিন, আবদুর শুক্কুর ফারুকী, হুমায়ন আলম মুন্না, মহিলা আওয়ামী লীগের কান্তা ইসলাম মিনু। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, ত্রাণ সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী মোঃ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, উপ প্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম, নির্বাহী সদস্য নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু প্রমুখ। সভার শুরুতে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ শাহাদাত বরণকারী শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
