চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসব ও বইমেলা পর্ষদের আয়োজনে ও হাটখোলা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় তিন দিন ব্যাপী ‘চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক উৎসব ও বইমেলার’ দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশনে ‘চট্টগ্রাম ছন্দে জীবনের ঝংকার’ শিরোনামে সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে।
রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি সেমিনার হলে আয়োজিত সেমিনারে অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন শিশিরের উপস্থাপনায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম। এসময় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও লেখক ওমর কায়সার।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম বলেন, পৃথিবীতে যত ভাষা আছে তন্মধ্যে চট্টগ্রামের ভাষা ৮৮ তম। আমরা আমাদের ভাষাকে ধরে রাখতে পারছিনা। বেশী স্মার্ট হতে গিয়ে চট্টগ্রামের মানুষ আজকে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে হারিয়ে ফেলছি। আমাদের ভদ্র সমাজের বাচ্ছারা এখন চট্টগ্রামের ভাষায় কথা বলতে চাইলে আমরা তাদেরকে বলি পঁচা কথা। আমরা নিজেরাই আমাদের ঐতিহ্যকে হারয়ে ফেলছি,আমরা মূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।
চট্টগ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধরে রাখার গুরুত্বের কথা জানিয়ে তিনি বলেন চট্টগ্রামের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সেই ঐতিহ্যকে আমরা হারিয়ে ফেলছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে অন্যথায় আমরা আমাদের এই সমৃদ্ধ চট্টগ্রামের ভাষা,সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলব।
চট্টগ্রামের ভাষায় প্রচুর নিজস্বতা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ভাষা বাংলা ভাষার একটি অংশ। এ ভাষার সাথে বাংলা ভাষার কোন বিরোধ নেই। আর তাই সকলের উচিত নিজেদের সন্তানদের নিজেরদের মাতৃভাষায় প্রথম পড়ালেখা শুরু করানো। নিজেদের ভাষা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করা।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসাইন কবির, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মহীবুল আজিজ প্রমুখ।
দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যায়। এ আয়োজনে ছিলো কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্টান ও শ্রুতি নাটক পরিবেশন। এসময় কবি কংকন দাশ ও এ.টি.এম সাইফুর রহমান সহ চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি করেন। খাগড়াছড়ির নৃত্যদল ‘টীম রেঙ’ এর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। পরে কলকাতার শিল্পী লেখক রতন কুমার ঘোষ ও মিতা ঘোষের শ্রুতি নাটক পরিবেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্টানের সমাপ্তি ঘটে।
