সর্বশেষ

বিএনপিতে চলছে ব্যর্থ নেতাদের সরানোর কাজ,আসছে অবরোধ, হরতাল, ঘেরাও কর্মসূচি 

রাজপথে হার্ডলাইন কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা ও আশপাশের ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তন আনা হচ্ছে নেতৃত্বে। গেল ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচির দুর্বলতা থেকেই এই আগাম পরিবর্তন বলে জানান দায়িত্বশীল নেতারা।
সূত্র জানায়, বিএনপি মধ্য সেপ্টেম্বরের পর টানা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামবে। পরের এক মাসকে টার্নিং পয়েন্ট ধরে আন্দোলন কর্মসূচি সাজাচ্ছে দলটি। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঠপর্যায়ে নেতৃত্বের রদবদল করছেন। এ কাজে সপ্তাহদেড়েক সময় লাগবে। হাইকমান্ড নিজেই নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে। গাজীপুর জেলা ও মহানগর, নারায়ণগঞ্জ জেলা, মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলার দিকে এবার বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন নেতৃত্ব সামনে আনা হচ্ছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, ২৯ জুলাই রাজধানীর প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি পালনে আশপাশের জেলাগুলোর নানা দুর্বলতা ছিল। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ফের মাঠে নামার পরিকল্পনা চলছে। ওইদিনের মতো সমন্বয়হীনতা যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক রয়েছে হাইকমান্ড। যারা মাঠে প্রশাসন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন-তাদেরকেই কমিটিতে জায়গা দেওয়া হবে। আবার অনেক এলাকায় পদধারীরা নিষ্ক্রিয়। তাদের সাংগঠনিক নিয়মে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংগঠনিক সম্পাদক  বলেন, মঙ্গলবার রাতেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সবার মতামত নিচ্ছেন। যেখানে অনিয়ম আছে এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এমনকি ছাত্রদলেও আসতে পারে নতুন কমিটি। কয়েক দিনের মধ্যেই তা স্পষ্ট হবে। এজন্যই একটু বিরতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা ও তার পাশের মহানগরগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। কারণ আন্দোলন-লড়াইয়ে তাদের মূল কেন্দ্রে থাকতে হয়। পাল্টে দেওয়া হতে পারে কয়েকটি চলমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি। তৃণমূল নেতাদের একই বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে ঝালাই করা হবে। এই মাসে বিভাগে পদযাত্রা, গণমিছিলসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা হবে। অক্টোবরের শুরুতে ঢাকাকেন্দ্রিক টানা কর্মসূচি দেওয়া হবে। অবরোধ, ঘেরাও এবং ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে, যাতে সরকার বাধ্য হয়ে এক দফা দাবি মেনে নেয়। এখন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেশ অসুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য মাঠে সবাইকে সোচ্চার হতে বলা হচ্ছে। আমরা মুক্তির দাবি আরও জোরালো করব মাঠের কর্মসূচিতে। জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে দুয়েকদিনের মধ্যেই বৈঠক করবে বিএনপি। নতুন কর্মসূচি ঠিক করতে তারা সবার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এ বিষয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি বলেন, সরকার হার্ডলাইনে গেলে বিএনপি ও বিরোধীরা আরও হার্ডলাইনে যাবে। বিএনপিকে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। আমরা হলাম সহযোগী। বৈঠক শিগগির হবে। নতুন কর্মসূচি আসবে এবং তা টানা কর্মসূচি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  বলেন, বছরের ৩৬৫দিন তো আন্দোলন করা যাবে না। কর্মসূচি চলছে, কর্মসূচি আসবে। মাঝেমধ্যে কর্মসূচি পরিস্থিতিভেদে নানামুখি হতে পারে। একটি কর্মসূচি শেষ হলে তার মূল্যায়ন করার ব্যাপার আছে। সময় নিতে হয়। নানা দিক বিবেচনা করে কর্মসূচি দিতে হয়। আর সরকার হার্ডলাইনে গেলে বিএনপি বসে থাকবে না। তারা আর কত হার্ডলাইনে যাবে!
শনিবার ঢাকায় ফের গণমিছিলের ঘোষণা : এদিকে শনিবার ঢাকায় ফের গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগের এক দফাসহ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলটি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আগামী শনিবার এই গণমিছিল করা হবে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দল-জোটগুলোও এই কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকার আদালতকে ব্যবহার করে বিচার বিভাগকে অনাস্থার জায়গায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সাজা দিচ্ছে। দেড় দশক আগের মামলা সচল করা হচ্ছে। দিনরাত চলছে আদালত। উদ্দেশ্য আন্দোলন স্তব্ধ করে আবারও একদলীয় নির্বাচন করা। রিজভী বলেন, আমাদের এক দফার আন্দোলন চলমান। দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ, বিদ্যমান অবৈধ সংসদ বিলুপ্ত, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে এই আন্দোলন।

 

আরও পড়ুন