সর্বশেষ

আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ ও আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্-এর চট্টগ্রাম ত্যাগ

৯ রবিউল আউয়াল ঢাকায় এবং বিগত ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) তে অংশ নিতে চট্টগ্রামে আসা সিরিকোট দরবার শরিফের তিন বরেণ্য বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.), পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (ম.জি.আ.) গতকাল সোমবার ৯ অক্টোবর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন। ১১ অক্টোবর বুধবার তাঁরা স্বদেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। গতকাল তিন মাশায়েখে হযরাতের চট্টগ্রাম ত্যাগকালে হাজার হাজার দ্বীনদার সুন্নি তরিকতপন্থি মানুষ তাঁদের প্রতি হৃদয়ের গভীরতম ভালোবাসা, মহব্বত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় মুরিদানসহ ভক্ত জনতার চোখে মুখে ছিল বেদনার অশ্রু। বিশেষ করে গাউসে জমান রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.) শারীরিক অসুস্থতার মাঝেও বাংলাদেশের সুন্নি তরিকতপন্থি জনতার হৃদয়ের আকুলতার তাগিদে এদেশে ছুটে আসেন। জশনে জুলুসসহ অনেক মাহফিলে তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও হুজুরের দোয়া-সুনজর ভক্ত মুরিদদেরকে বেশ অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রামে লাখো লাখো নবী ওলীপ্রেমী জনতার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জশনে জুলুসে এবং নানা সভা সম্মেলন কনফারেন্সের মধ্যমণি ছিলেন পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (ম.জি.আ.)।

এ তিন বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের আমন্ত্রণে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। ২৫ সেপ্টেম্বর (৯ রবিউল আউয়াল) সোমবার রাজধানী ঢাকায় এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরে অনুষ্ঠিত জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন আওলাদে রাসূল (দ.) পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.)। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এবং ৬ অক্টোবর শুক্রবার জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে পর পর দুটি জুমায় খুতবা দেন এবং জুমার নামাজ পড়ান পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.)। এসময় উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (ম.জি.আ.)। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন গাউসে জমান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.)। মুনাজাতে তিনি মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পরিত্রাণ কামনা করেন।

চট্টগ্রামে টানা ১৪ দিন অবস্থান করে হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.) গাউসিয়া কমিটির বাংলাদেশ এর বিভিন্ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও চন্দনাইশের বেশ কয়েকটি রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ কয়দিনে তিনি জামেয়া জুলুস মাঠে এবং আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়াসহ নানা মাহফিল কনফারেন্সে পুরুষ ও নারীদেরকে আলাদা ব্যবস্থাপনায় সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়ার বাইয়াত করান এবং তরিকতের ছবক দেন। পুরুষ ছাড়াও পর্দানশিন হাজার হাজার নারীও তরিকতের ছবক নেন হুজুর কেবলার কাছ থেকে। এসব মাহফিলগুলোতে ছিল তরিকতপন্থী সুন্নি জনতার উচ্ছ্বাসমুখর উপস্থিতি।
প্রায় প্রতিটি মাহফিল কনফারেন্সে প্রদত্ত বক্তব্যে পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (ম.জি.আ.) সুন্নি তরিকতপন্থিসহ সর্বস্তরের নারী পুরুষদেরকে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা ধারণ করে শরিয়ত-তরিকতচর্চা বেগবান করার আহ্বান জানান। তিনি জামেয়া, আনজুমান ও আনজুমান পরিচালিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর খেদমতে এগিয়ে এসে দুনিয়া-আখিরাতে অশেষ কল্যাণ ও নাজাতের পথ সুগম করার তাগিদ দেন। চট্টগ্রামে আলমগীর খানকাহ্ শরিফে অবস্থানকালে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নি ট্রাস্ট পরিচালিত এশিয়াখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাব্বির শাহ্ (ম.জি.আ.)। তিনি জামেয়ার সার্বিক পরিবেশ ও পাঠদানসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং জামেয়া পরিচালনা কমিটি, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জামেয়ার পড়াশোনার মানসম্মত নিবিড় পরিবেশ ও নানা সুযোগ সুবিধার কথা জেনে হুজুর কেবলা (ম.জি.আ.) খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগামী দিনে জামেয়াকে ঘিরে নানা পরিকল্পনার কথা হুজুর কেবলাকে অবহিত করেন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মহসিন মুহাম্মদ ইয়াহিয়া খানসহ আনজুমান নেতৃবৃন্দ। গতকাল ৯ অক্টোবর সোমবার ফজর নামাজ শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগকালে হুজুর কেবলা পীরে বাঙাল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মজিআ) সকল তরিকতপন্থিেেক ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শরিয়ত-তরিকতের খেদমতের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে উৎসর্গীত হবার তাগিদ দেন। হিংসা, বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও অনৈক্যের পথ থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশ, জাতির শান্তি সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনায় বিদায়ী মুনাজাত করেন আওলাদে রাসূল (দ.) গাউসে জমান সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (ম.জি.আ.)। হুজুর কেবলাগণের বিদায়কালে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন