চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য আনা ৩৯৪ কোটি টাকার ২৪টি ইকুইপমেন্ট ও ১০০ টন ধারণ ক্ষমতার ক্রেনও উদ্বোধন করা হয়েছে্। চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব ইকুইপমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আজ রোববার এসব ইকুইপমেন্ট উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা কোথায় গেছে গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই। আমরা বিশ্বের সঙ্গে থাকতে চাই।মেরিটাইম বাদ দিয়ে উন্নত বাংলাদেশ সম্ভব নয়। তাই সরকার মেরিটাইম খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে।আমাদের সমুদ্র আজ অবারিত। বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন হলে শুধু বন্দর নয় সারা দেশ সুফল ভোগ করবে।
রোববার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ইক্যুইপমেন্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্দরের এনসিটি বার্থে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল।
চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৬টি রিচ স্টেকার, ২টি মোবাইল ক্রেন, ৪টি ভিআরপি, ২টি ৫০ টন ধারণক্ষমতার এবং দুটি ১০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন এবং ২টি কন্টেনার মুভার রয়েছে। এই ২৪টি ক্রেন আমদানি করতে খরচ হয়েছে মোট ৩৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৪টি ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের যে প্রকল্প এই ২৪টি ইকুইপমেন্ট তারই অংশবিশেষ। এগুলো বন্দরকে গতিশীল করবে। আমদানি–রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের ইকুইপমেন্ট বহরের বহু যন্ত্রপাতি অনেকদিনের পুরনো। প্রায় ১২৫টি ইকুইপমেন্টের এই বহরের অনেকগুলোর আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে গেছে। বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে ইকুইপমেন্টগুলো ঠিকভাবে চালানো না গেলে উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হয়। একইসাথে সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
বন্দরের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ইকুইপমেন্টের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ মোট ১০৪টি ইকুইপমেন্ট কেনার বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। চারটি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় ২টি মোবাইল ক্রেন (১০০ টন), ২টি মোবাইল ক্রেন (৫০ টন), ২টি মোবাইল ক্রেন (৩০ টন), ১২টি মোবাইল ক্রেন (২০ টন), ২৩টি মোবাইল ক্রেন (১০ টন), ১১টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (আরটিজি), ২১টি ফোর–হাই স্ট্র্যাডেল ক্যারিয়ার, ৬টি টু–হাই স্ট্র্যাডেল ক্যারিয়ার, ৪টি রিচ স্টেকার (লোড), ২টি কন্টেনার মোভার, ৪টি ভেরিয়েবল রিচ ট্রাক (৪৫ টন), ২টি লগ হ্যান্ডলার–স্টেকার, ৪টি ফর্ক লিফট ট্রাক (২০ টন) ১টি ম্যাটেরিয়াল–মাল্টি হ্যান্ডলার (৩৫ টন), ২টি লো বেড ট্রেইলার, ২টি হেভি ট্রাক্টর পাওয়ার রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৪টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনার জন্য খরচ হয়েছে আড়াইশ কোটির বেশি টাকা। এর বাইরে ১০০ টন ধারণক্ষমতা এবং ৫০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেনগুলোর দামও অনেক। এছাড়া আরটিজি, মোবাইল হারবার ক্রেন, রিচ স্ট্রেকারসহ সবগুলো ইকুইপমেন্ট দামি। ইতোমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের অধিকাংশ ইকুইপমেন্ট বন্দরের বহরে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোপূর্বে সর্বোচ্চ ৮৪ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন ছিল। এই প্রথম বন্দরে ১০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন যুক্ত হলো।
এর আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট (এনএমআই) এর ২৫তম ও এনএমআই মাদারীপুরের ১৪তম ব্যাচের পাসিং আউট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন শিপিং সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর ও মেহেরপুরে আরো চারটি ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট মাদারীপুর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করা হবে। সেখানে প্রতি ব্যাচে ৩০০ জন করে দুটি ব্যাচে প্রতিবছর ৬০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে দেশের সকল সেক্টর একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলছে। এরই অংশীদার হিসেবে শিপিং সেক্টর জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই শিপিং সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
