ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন দেননি হাইকোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির পর আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি ধরে নিয়ে খারিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বাবুল আক্তারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মুনসুরুল হক চৌধুরী ও মোহাম্মদ শিশির মনির।রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘২০২১ সালের জুন থেকে বাবুল আক্তার জেলে আছেন। এরমধ্যে মামলার ৯৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯তম সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। রুল শুনানির পর আদালত ৬ মাসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করতে আদেশ দিতে চেয়েছিলেন।’
‘আমাদের পক্ষ থেকে আরজি ছিল, ছয় মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে না পারলে যেন তার জামিন বিবেচনা করা হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানালে আদালত রুলটি খারিজ করতে চেয়েছিলেন। তখন আমরা বললাম উত্থাপিত হয়নি ধরে আবেদনটি খারিজ করতে। এরপর আদালত এ আদেশ দেন।’
এখন আবার বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করা হবে জানিয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘বিচারিক আদালত আবেদন খারিজ করলে তখন হাইকোর্টে আবার জামিন আবেদন করা হবে।’
মিতু খুনের আদ্যোপান্ত
২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম। তখন তার স্বামী বাবুল আক্তার নিজেই বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১২ মে এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই দিনই মাহমুদার বাবা মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে মেয়েজামাই বাবুলসহ ৮জনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন।
সেদিনই বাবুল আক্তারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বাবুল ও তার শ্বশুরের করা দুটি মামলা তদন্ত করে পিবিআই। শ্বশুরের মামলায় গত বছর ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার আগে বাবুল আক্তারের করা মামলায় ৯ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্র গত বছর ১০ অক্টোবর গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। চলতি বছর ১৩ মার্চ বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। ৯ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বাবুল আক্তার এখন ফেনী কারাগারে আছেন।
এ মামলায় বিচারিক আদালতে আদালতে বিফল হয়ে গত বছর গত ৬ মার্চ জামিন চেয়ে আবেদন করেন বাবুল আক্তার। জামিন আবেদনে বলা হয়, আবেদনের পক্ষে মামলার অন্য আসামিদের কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবুল আক্তারের নাম বলেননি। ঘটনার পাঁচ বছর পর মামলা হয় এবং এখন পর্যন্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি কামরুল ইসলাম মুসার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ তথা আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। ফলে তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।
শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ রুল দেন আদালত। কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। গত বছর ৭ ডিসেম্বর রুল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করলেন উচ্চ আদালত।
