সর্বশেষ

৮ আসনে সমঝোতা, কপাল পুড়লো যেসব নৌকার প্রার্থীর

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে ৭ আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও জোটের বাইরে সুপ্রিম পার্টির সঙ্গেও একটি আসনে সমঝোতা হয়েছে। যদিও এরআগে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ৩০০ আসনের ২টি ফাঁকা রেখে ২৯৮ জনকে দলীয় মনোনয়ন দেয় গত ২৬ নভেম্বর। পরে দলের মনোনীতরা গত ৩০ ডিসেম্বর রিটার্নিং কমর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তবে ফাঁকা দুটি আসনের মধ্যে ছিলো কুষ্টিয়া-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৫। আর বর্তমান এমপি কুষ্টিয়া-২-এর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও নারায়ণগঞ্জ-৫ জাতীয় পার্টির আসনে সেলিম ওসমান। সঙ্গত কারণে, কুষ্টিয়া-২ পাচ্ছেন হাসানুল হক ইনু ও নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমানই থাকছেন। ফলে কেন্দ্রীয় দলীয় জোটের সঙ্গে ৮ আসনে সমঝোতা হওয়ায় হাসানুল হক ইনুর আসন বাদে ৭টিতেই নৌকা প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। এতে করে এই ৭ আসনের নৌকার প্রার্থীর কপাল পুড়লো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বাসায় ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আমির হোসেন আমু ১৪ দলের শরিকদের জানিয়ে দেন, ৮টি আসন দেওয়ার ব্যাপারে জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মত দিয়েছেন। এরমধ্যে বর্তমান যারা এমপি রয়েছেন তাদের মধ্যে ৭জনকে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি একজন এমপি নন তাকে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) ৩টির মধ্যে হাসানুল হক ইনু-কুষ্টিয়া-২, লক্ষ্মীপুর-৪ মোশাররফ হোসেন ও রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে ৩টির মধ্যে রাশেদ খান মেনন বরিশাল-৩, ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী-২ ও মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সাতক্ষীরা-১। জাতীয় পার্টিকে (জেপি) ১টি আনোয়ান হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২। তবে শিরীন আক্তারকে সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানো হতে পারে।
বর্তমান এমপি তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভাইন্ডারিকে না দিয়ে তারই ভাইজতা সুপ্রিম পার্টির সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভান্ডারিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে নৌকার প্রতীক দেওয়া হয়েছে। যদিও সুপ্রিম পার্টি ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে নেই। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার ৭ প্রার্থীর কপাল পুড়লো।
এরমধ্যে নৌকার প্রার্থী রয়েছেন- লক্ষ্মীপু-৪ ফরিদুন্নাহার লাইলী, বগুড়া-৪ মো. হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, বরিশাল-৩ সরদার মো. খালেদ হোসেন, রাজশাহী-২ মোহাম্মদ আলী, সাতক্ষীরা-১ ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, পিরোজপুর-২ কানাই লাল বিশ্বাস, চট্টগ্রাম-২ খাদিজাতুল আনোয়ার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু সময়ের আলোকে বলেন, কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়ে গেছে। জোট নেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সংসদে ১৪ দলের যারা আছেন, তাদেরকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার অনুমোদন দিয়েছেন। শুধু একজনকে বাদ দিয়েছেন। জাসদকে ৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টিকে ৩টি, জেপিকে ১টি ও তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির ভাইজাতে ১টি আসন দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শরিক দলগুলোর একাধিক নেতার কাছে সময়ের আলোর এই প্রতিবেদক জানতে চাইলেও কেউ কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকাষি চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও কোনো সমাধানে আসতে পারছিল না ১৪ দলের শরিক দলগুলো। পরে জোট নেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে দিয়ে একটি সমন্বয় টিম করে দেন। ওই টিম কয়েক দফায় বৈঠক করলেও কোনো সমাধাণে পৌছাতে পারেননি।
পরে গত রোববার রাতে শেরে বাংলা নগরের এমপি হোস্টেলে সমন্বয় টিম শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে ১৪ দলের শরীকরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠে রাখার ব্যাপারে মত দেন।
তবে ওই বৈঠকে কোনো আসন সমঝোতা না হলেও শরিক দলগুলোর মধ্যে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তারা আসন চেয়ে একটি শর্ট লিস্ট দেয় আওয়ামী লীগের সমন্বয় টিমের কাছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি প্রথমে ৭টি আসন চাইলেও অবশেষে তিনটি আসন দাবি করে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) পাঁচটি, জাতীয় পার্টি (জেপি) পাঁচটি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দুটি, তরিকত ফেডারেশন দুটি, গণতন্ত্রী পার্টি সাত ও সাম্যবাদী দল একটি আসন চায়।

আরও পড়ুন