অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়ায় বন্দীদশা ও মাফিয়াদের হাতে আটক প্রায় ৩০০ যুবককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন। এরইমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা।
জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুমড়াখালীর বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম। দালালের মাধ্যমে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় তিনি লিবিয়ায় আটক হন। ২১ দিন জেলে থাকার পর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দেশে ফেরেন। বর্তমানে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে চরমুগরিয়া এলাকায় কম্পিউটারের দোকান দিয়ে আয় করে সংসার চালাচ্ছেন।
আরেক ভুক্তভোগী সদর উপজেলার মধ্য খাগদীর রকিব হোসেন। লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে ৭ মাস নির্যাতনের শিকার হন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে দেশে ফেরেন। এখন ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, সেখান থেকেই আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত তিন বছরে অবৈধপথে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন মাদারীপুরের ৩ হাজার ১৪৮ জন। তাদের মধ্যে লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কয়েকশ। জেলখানায় বন্দী ছিলেন ১২৭ যুবক এবং সাগরে ডুবে মারা যান ২৫ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে এর সংখ্যা আরও বেশি।
ভুক্তভোগী আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘দালালদের লাখ লাখ টাকা দিয়েও বিদেশে যেতে পারিনি। লিবিয়ায় আটকের পর জেলাখানায় বন্দী ছিলাম। পরে সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত এসে সরকারিভাবে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন দোকান দিয়ে ব্যবসা করছি, বেশ ভালোই আছি। সবাইকে বলব কেউ অবৈধভাবে দালালদের মাধ্যমে বিদেশ যাবেন না। তাহলে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
আরেক ভুক্তভোগী রকিব হোসেন বলেন, ‘আমি লিবিয়ার জেলখানায় ৭ মাস বন্দী ছিলাম। পরে জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দেশে ফেরত আসি। এরপরে ভর্তি হই ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে। এখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে সংসার চালাব। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।’
মাদারীপুর সদরের ইউএনও মো. মাইনউদ্দিন বলেন, মানবপাচার ও অবৈধপথে বিদেশযাত্রা রোধে যুবক-যুবতীদের কম্পিউটার, ফ্রিল্যান্সিং, মার্কেটিংসহ দেওয়া হচ্ছে নানা প্রশিক্ষণ। এতে তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে বিদেশযাত্রাও রোধ হচ্ছে।
মাদারীপুরের রাজৈরের ইউএনও মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রশাসন থেকে সবসময় বৈধভাবে বিদেশে যেতে বলা হয়। যারা অবৈধভাবে বিদেশ যেতে চায়, তাদের অধিকাংশ দালালদের মাধ্যমে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরত আছেন। তাই সঠিক পরামর্শ নিয়ে কেউ বৈধভাবে বিদেশে গেলে কোনো অসুবিধা বা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মানবপাচার রোধে বিভিন্নস্থানে সভা, সমাবেশ ও র্যালিসহ নানা প্রচারণা চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা সচেতন হলে অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা অনেকাংশেই কমে আসবে। জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান।
