সর্বশেষ

Your_Lover

ঘুমের মধ্যে বুজতে পারছি আমার কপালে কেউ চুমু দিচ্ছে।চোখের উপর আলো পরছে। চোখ মেলে ভূত দেখার মতো অবস্থা হলো,

-আমি আয়ান, কুল বেবি। চিৎকার দিয়ে আমার বারোটা বাজিয়ে দিয়ো না
– তু-তু-তুমি, এতো রাতে আমার বেডরুমে কি করছো?কি ভাবে আসছো?
-সে অনেক কষ্ট করে আসছি।
-কেনো? কেউ যদি দেখে ফেলে তাহলে কি হবে?
-কেউ দেখবে না। সব ব্যাবস্থা করে এসেছি।
-তুমি এক্ষুনি বের হও
-হ্যাঁ বের হবো তবে, তোমাকে নিয়ে যাবো।
-আমি কোথাও যাবো না।
-যাবে না মানে কি, তোমাকে যেতেই হবে।
-কেউ যদি দেখে,,,,,,
-চুপ!!!!!! আমার সাথে এসো।

বেলকনিতে মই দিয়ে রেখেছে নিচে নামতে সুবিধা হলো সাথে ওর ৩টা ফ্রেন্ড ছিলো। বাইকে ওঠার সাথে সাথে ফুল স্পিড বাইক স্টার্ট দিলো মনে হলো হাওয়ায় ভাসছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা বাড়ির সামনে আসলাম। কিছুটা ভয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
-এটা কার বাড়ি? আর আমাকে এখানে কেনো নিয়ে আসছো?
-ভূতের বাড়ি। তোমাকে রেখে যাবো
-প্লিজ না না না। আমি এখানে থাকবো না
– থাকবো না বললেই তো হবে না।
-আমি চিৎকার করবো কিন্তু
-করো। তোমার চিৎকার কেউ শুনবে না

আমাকে কিছু একটা করতে হবে। যে ভাবে হোক এখান থেকে বের হবো। তবে কি করবো বুঝতে পারছি না। হ্যাঁ দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাবো। রেডি ওয়ান, টু,থ্রি দৌড়। কি হলো আমি দৌড় দিতে পারছি না কেনো?
-কি পালিয়ে যাবে, তা হবে না। আমি জানতাম তুমি পালিয়ে যেতে চাইবে তাই বাইক থেকে নেমে তোমার হাত ধরে রাখছি। তুমি খেয়াল করো নি।
-কুত্তা, গন্ডার, বান্দর তোরে ভূতে ধরবে। তোর ঘাড় মটকাবে (মনে মনে বলতে আছি)
-আমার ঘাড় মটকাবে না।
-জোড়ে তো বলি নাই তাহলে শুনলে কিভাবে? (এই যাহ্ আমি মনে মনে এগুলো বলছি তা শিকার করে ফেললাম ধুর ভূতের ভয় সব বুদ্ধি শেষ)
-ভূতের সাথে প্রতিদিন দেখা করি তাই জানি কিভাবে মানুষের মনের কথা জানা যায় বুঝলে ম্যাডাম।
-আচ্ছা ভূতটা কি ছেলে নাকি মেয়ে?
-গেলে দেখতে পাবে। আর একটা কথাও বলবে না।

কথা বলতে বলতে বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। চারদিকটা অন্ধকার আমার খুব ভয় লাগছে। আল্লাহ আমাকে বাঁচাও।
-লাইট অন করো, আমার খুব ভয় লাগছে।

-কি হলো কথা বলো না কেনো?

-আয়ান আয়য়য়য়ান আয়য়য়য়ান। কোথায় তুমি? প্লিজ আমার কাছে আসো।

-এই ভূতের বাড়িতে যদি আমি মরে যাই সত্যি তোর ঘাড় মটকাবো। ঔ আয়ানের বাচ্চা আমার সামনে আয়। তোর ভালো হবে না। একা একা কথা বলতে বলতে মনে হলো আমাকে কেউ জড়িয়ে ধরলো। আমাকে ভূতে ধরে ফেললো,
-প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন।

লাইট অন হলো। আমি আয়ানকে জড়িয়ে ধরে আছি,

-হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে মাই সুইটহার্ট।

আয়ানে ফ্রেন্ড নিলয় বলে উঠলো,
-আমরা যে এখানে সেটা ভুলে যাস না।
-এবার ওদের একা ছেড়ে দে,চল আমরা বাড়ির বাগানে গিয়ে বসি। (সানভি)
নিলয়, রাফসান, সানভি চলে গেলো।

-ভয় দেখানোর জন্য সরি।
-আমাকে এতোক্ষণ ভয় দেখিয়ে এখন আসছো। নি কুছি করি তোর ভ্যালেন্টাইন।
-তোমার হাতে ফোন ছিলো, ফ্ল্যাস লাইট অন করতো পারো নি। আমি এতোকিছু করলাম তুমি উপভোগ করবে বলে তা না মাথা মোটার মতো চিল্লাপাল্লা করছে।
-আমি কি জানি তুমি এতো এতো সুন্দর সারপ্রাইজ দিবে।
চারদিকে গোলাপ ফুল আর ফুল সাথে একটা কেকও আছে।
-কোথায় শুনছো সারপ্রাইজ জানিয়ে দেয়।
-তাই বলে আমাকে ভয় দেখাবে?
-মাঝে মাঝে ভয় দেখানো ভালো নয়তো বুঝবো কিভাবে আমাকে হারানোর ভয় তুমি পাও কি না।
-তুমি আমার জন্য আছো, সারা জীবন এভাবে থাকবে। আর হারানোর ভয় কেনো পাবো, বিশ্বাস আছে তো।
-পাকা বুড়ি হয়ে গেছো। কে বলবে একটু আগে বাচ্চাদের মতো করছো।
-ইসসস্ কি লজ্জা।
-ওরে আমার লজ্জাবতী বউ।
-হুম
আয়ান ইভার হাতের একটা ডায়মন্ডের রিং পরিয়ে দিলো।
-শুনো এই রিংটা কখনও হাত থেকে খুলবে না, আমাকে যদি ভোলার চেষ্টাও করো তাহলে এটা তোমাকে ভুলতে দিবে না সব সময় আমাকে মনে করিয়ে দিবে।
-এতো দামি গিফট আমি নিতে পারবো না, যদি হারিয়ে যায়।
– হারিয়ে গেলে যাবে শুধু তুমি হারিয়ে না গেলে হবে।
– কিন্তু আমি তোমাকে আজকের দিনে কোনো গিফট দিতে পারলাম না।
-আমার এতো সুন্দর গাল তোমার কাছে আছে আর তুমি বলো গিফট দিতে পারলে না। উম্মাহ্ দিয়ে দেও গিফট হয়ে যাবে।
-না অন্য কিছু দিবো
-আরো বেশি কিছু আগে বলবে তো আমি রেডি আছি।
-নির্লজ্জ, অসভ্য।
-শুধু তোমার কাছে, আমার গিফট আমাকে দিয়ে দেও।
-উম্মাহ্
-আর একটা হবে নাকি
-মোটেও না।
-কিপটে
-বিয়ের পর কিপ্টেমি করবো না।
-চলো বিয়ে করে ফেলি।
-বিয়ে করার সময় আসে নি।
-তাও ঠিক ।
-আচ্ছা এটা কি সত্যি কোনো ভূতের বাড়ি?
-আরে না পাগলী, এটা আমাদের বাড়ি তবে এখানে কেউ থাকে না।
-ওহ্ আমি সত্যি ভাবছি আমাকে ভূতের কাছে রেখে যাবে।
-হাহাহাহা, তোমার ভাবনা সত্যি করলে কেমন হয়?
-খুব খারাপ, আমি কেঁদে দিবো কিন্তু
-আচ্ছা মজা করছি।
-আমাকে বাসায় পৌঁছে দেও।
-এতো তাড়াহুড়ো কিসের? কেক কাটা হয় নি, বিরিয়ানি খাওয়া হয় নি। এসব খাওয়া কমপ্লিট করো তারপর বাসায় দিয়ে আসবো।
-আমার ক্ষুধা নেই , তুমি খাও
-আমি তো খাবোই । আর তোমাকেও খেতে হবে।
-হুহ
-আমাকে খাইয়ে দেও।
-হুম,

আমি আয়ানকে খাইয়ে দিয়েছি আর আয়ান আমাকে খাইয়ে দিয়েছে। আয়ানকে যত দেখি তত মুগ্ধ হয়ে যাই মানুষটা কি করে এতো ভালোবাসতে পারে। কিন্তু মাঝে মাঝে একদম ভিলেনের মতো করে।
-কি ম্যাডাম কোথায় হারিয়ে গেলে?
-তোমার ভালোবাসার জগতে।
-সেটা আবার কোথায়?
আয়ানকে জড়িয়ে ধরে ওর বুকের হৃৎস্পন্দন শুনে বললাম,
-তোমার এখানে,
-তাই বুঝি।
-হুম তাই, সারা জীবন আমাকে আগলে রেখো।
-যদি না রাখি?
-না রেখে যাবে কই হ্যাঁ। আমি একটা ভূতের বাড়ি খুঁজে সেখানে গিয়ে ভূতের সাথে কথা বলে ভূত হয়ে তোমার ঘাড় মাটকাবো হুহ।
-হাহাহা, তোমার ভূত হতে হবে না। তুমি আমার রানী হয়ে থাকবে।
-হ্যাঁ
-এখন চলো বাড়ি যাওয়া যাক
-হুম

চলবে,

Your_Lover
লেখা_ইভানা
পার্ট_১

আরও পড়ুন