বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তার পরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। এই চাওয়া থেকেই বাবা দিবসের প্রচলন। আজ বছর ঘুরে সেই রবিবার, বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয় বিশ্বজুড়ে।
বাবা দিবসে অলি আহাদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সাবেক এমপি ও বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা।
তার বাবা অলি আহাদ ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‘সাত বছর বয়সে একবার আমার টাইফয়েড হয়েছিল। ভীষণ অসুস্থ ছিলাম তখন। আমি কোনো শব্দ সহ্য করতে পারতাম না, আলো সহ্য করতে পারতাম না। এ সময় বাবা যত্ন নিতেন, পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে দিতেন। আমার এখনো মনে আছে, যখন আমি কোনো কিছু সহ্য করতে পারতাম না, তখন বাবার এই হাতের ছোঁয়ার মধ্যে এমনকি যেন ছিল, যা আমার এত আরাম মিলত, প্রশান্তি দিত’-বলছিলেন রুমিন ফারহানা।
বাবা অলি আহাদের স্মৃতিচারণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হচ্ছে বাবার সঙ্গে। আমার বাবার কয়েকটা কথা সব সময় মনে পড়ে। তিনি কখনো প্রথাগত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেননি। এমনকি নিয়মিত পড়তে বসা, ক্লাসে প্রথম হওয়া নিয়েও কখনো কিছু বলেননি। এর বাইরে তিনি খেলাচ্ছলে আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমি সাহসী মেয়ে হয়ে উঠি। কখনো যদি ভয় পেতাম, কান্নাকাটি করতাম উনি তা একদম পছন্দ করতেন না। সব সময় বলতেন, ‘মা’ চোখের পানি না, শক্ত হয়ে দাঁড়াও। ছোটবেলা থেকে একটা সংস্কৃত শ্লোক বলতেন, যার মানে, পেছনে যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে।
বাবা সব সময় বলতেন, জীবনে যা আসুক না কেন, নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাবে না। বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। যখন মনস্থির করবে, রাস্তা পারাপারের, তখন আর পেছনে তাকানো যাবে না। এই কথাগুলো আমার জীবন বোধ তৈরি করেছে।
আমার রাজনীতিতে বাবা অলি আহাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকলেও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি ভাষা সৈনিক ও ডেমোক্রেটিক লীগ নেতা ছিলেন। আমার জন্মের পর থেকে দেখেছি বাবা জেলে ছিলেন। আমি বাবার সঙ্গে মিছিল করেছি, যা আমাকে তৈরি করেছে।
সত্যি বলতে বাবা চেয়েছিলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হই। এমনকি আইন পেশায় আসাটাকেও বাবা পছন্দ করেননি। তিনি চেয়েছিলেন, যেহেতু আমি বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলাম, তাই পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোথাও জয়েন করি। তিনি সব সময় আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যে কারণে আমার সিদ্ধান্তে কখনো বাবা বাধা দেননি।
আমার বাবা অলি আহাদ অত্যন্ত ব্যস্ত একজন মানুষ ছিলেন, কিন্তু তার পরও আমাকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন। তার পুরো পৃথিবী একদিকে ছিল, আর আমি অন্যদিকে। বাবা কখনো বাসায় আমাকে একা রেখে যেতেন না। আমাদের বাসায় সহযোগী হিসেবে যারা ছিলেন, তারা অনেক পুরনো, বলতে পারেন বাবার যুবক বয়স থেকে তারা আমাদের বাসায় থাকতেন। তারপরও বাবা কখনো তাদের কাছে আমাকে রেখে যাননি। আমার মা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ফলে তিনিও অত্যন্ত ব্যস্ত থাকতেন। তার নিয়মিত অফিস ছিল। মায়ের সঙ্গে সেই সময়টা ভাগ করে নিয়ে বাসায় থাকতেন বাবা।
