,

সর্বশেষ

হালদায় গভীর রাতে ডিম ছাড়ল মা মাছ

ইতোমধ্যে পাঁচটি জো/তিথি চলে গেছে। গেল জোতে ডিম না ছাড়ায় ডিম আহরণকারীদের মধ্যে হতাশা ছিল। জুন মাসের শেষ জোতে ডিম ছাড়বে–এই প্রত্যাশা ছিল ডিম আহরণকারী ও সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিম ছাড়ার পর ডিম আহরণকারীদের সেই হতাশা কেটে গেছে। এর আগে জেলেরা জানিয়েছিলেন, জুন মাসের এই অমাবস্যার জো এই বছরের শেষ জো। সর্বশেষ এই জো’র অপেক্ষায় ছিলেন আহরণকারীরা। ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই জো চলবে আজ ২০ জুন পর্যন্ত। নদীর অংকুরী ঘোনা থেকে খারিরমুখ রামদাস মুন্সির হাট পর্যন্ত প্রায় তিনশ নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম আহরণ করছেন। নদীতে চলমান এই জোয়ার থেকে ভাটা পর্যন্ত ডিম ছাড়ার কার্যক্রম চলবে বলে আশা করছেন ডিম আহরণকারী ও হালদা গবেষকরা।

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে বহু প্রতীক্ষিত ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। নদীর নাপিতেরঘাট, আমতুয়া ও আজিমের ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে নদীর উপরিভাগে নমুনা ডিম ছেড়েছিল। ডিম আহরণকারী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, রাতে নদীতে জোয়ারের সময় মা মাছ ডিম ছাড়বে। তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম জানান, গত রাত সাড়ে ১১টা–পৌনে ১২টার দিকে নদীর আমতুয়া থেকে মাছ ডিম ছাড়া শুরু করেছে। জোয়ারের এই সময় পর্যায়ক্রমে নদীর উপরি অংশে ডিম ছাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া জানান, নদীর আমতুয়া, আজিম্যার ঘাট ও নাপিতেরঘাটে প্রচুর পরিমাণ ডিম পাওয়া যাচ্ছে। জোয়ারের সময় নদীর উপরিভাগে ডিম ছাড়বে। এখন হালদার পাড়ে বহুল প্রতীক্ষিত ডিম সংগ্রহের উৎসব চলছে। জোয়ার ও ভাটার মধ্যে মাছ নদীতে ডিম ছাড়বে। ডিম আহরণকারীরা এই মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম নদীতে ডিম ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন