সর্বশেষ

এক দফা দাবি আদায় না করা পর্যন্ত মাঠে থাকব -ডাঃ শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আজকে মানুষের ভোটাধিকার নেই। প্রায় চার কোটি নতুন ভোটার হয়েছে। তারা কেউ ভোট দিতে পারেননি। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। এক দফা দাবি আদায় না করা পর্যন্ত মাঠে থাকব। আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও বাস উপযোগী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেটা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন। আমরা সেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই, যে বাংলাদেশ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রেখে গেছেন, যে বাংলাদেশকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন। যুগপৎ ধারায় বৃহত্তম গণআন্দোলনের এক দফা-ভোটাধিকার হরণকারী কর্তৃত্ববাদী, অবৈধ সরকারের পদত্যাগ। আর কোন দফা নেই। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশে নির্বাচনি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের অধীনে দেশে কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। আমাদের কাছে এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দাবি আদায়ে সব রাজনৈতিক দল নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

আগামী ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে শ্রমিক জনতার মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আজ ১৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজছে, অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া সরকারের মন্ত্রীরা আবোল তাবোল বলছে। এই সরকারের পতনে জীবন দিতে হলে আমরা জীবন দিবো, তবু দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো। সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বৈরাচার পতনের এক দফা, এক দাবিতে ইতোমধ্যে বিরোধী দলসমূহের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর বলেন, আজকে সবচেয়ে কষ্টে আছে আমাদের শ্রমজীবী মানুষ, আজকে সবচেয়ে কষ্টে আছে আমাদের খেটে খাওয়া মানুষ। তারা দুই বেলা দুমুঠো খেতে পায় না। তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থে, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে, শ্রমিকের স্বার্থে, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে, কৃষকের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও আমরা আজ পরাধীনতার গ্লানি বহন করছি। সরকার নাগরিকদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানবাধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতাও কেড়ে নিয়েছে। সব জায়গায় দলীয়করণ করা হয়েছে। দেশের মানুষ সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। এ সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। সন্ত্রাসের কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিম্মি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। বেকারত্ব বেড়েছে। সমগ্র দেশবাসী আজ এ সরকারের দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত। রিকশাচালক থেকে শুরু করে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবী সবাই এই সরকারের হাতে নির্যাতিত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির সভাপতিত্বে তিনি বলেন, এবারের আন্দোলন হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্দোলন। এই আন্দোলন দেশের সব মানুষ সম্পৃক্ত হবে এবং জনগণ তার অধিকার আদায় করে নেবে। এ দিকে চূড়ান্ত আন্দোলনে সফল হতে সাংগঠনিক সব শক্তিকে কাজে লাগাতে চায় আমরা। এর অংশ হিসেবে সবার কাছে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, নিষ্ক্রিয় থাকার দিন শেষ, রাজপথে সক্রিয় হতে হবে সবাইকে। এক দফার আন্দোলনের কর্মসূচিতে সকলকে অংশগ্রহণ করে রাজপথ দখল করতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ’র পরিচালনায় তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে মানুষ বাঁচতে চায়, গ্যাস-বিদ্যুৎ চায়, দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে চায়। গণতন্ত্রবিরোধী সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে তাদের মাধ্যমে নির্বাচন করে জনগণের সরকার, শ্রমিকদের সরকার, কৃষকদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোতোয়ালী থানা যুবদলের আহবায়ক নুর হোসেন নুরু, কামাল আলম, নওশাদ আল জাসেদুর রহমান, মিজানুর রহমান মিজান, মো. মানিক, মো. ইউসুফ, মো: ইকবাল, মাহবুব ছিদ্দিকী, মো. নুরুল ইসলাম মাসুমসহ গ্রেফতারকৃত যুবদলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে অন্যথায় যুবদল রাজপথ দখল করে তাদের মুক্ত করে আনবে।

বক্তব্য রাখেন নগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সহ সভাপতি নূর আহমদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মুহাম্মদ মুসা, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী সাকী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, মো. তাজুল ইসলাম তাজু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, জিয়াউল হুদা জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাচা, ওসমান গণি, মুজিবুর রহমান রাসেল, জাফর আহমদ খোকন, রাসেল নিজাম, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, মো. ওমর ফারুক, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নূর হোসেন উজ্জ্বল, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন মুকুল, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মো. নুরুল আমিন, ওমর ইমতিয়াজ টিটু, মো. নওশাদ, আসাদুজ্জামান রুবেল, সহ সম্পাদক বৃন্দ কমল জ্যোতি বড়–য়া, জিয়াউল হক মিন্টু, মিজানুর রহমান বাবুল, মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, হামিদুল হক চৌধুরী, মো. আনোয়ার হোসেন আনু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, মো. আবুল কালাম, মো. সালাহ উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন, হাফেজ কামাল উদ্দিন, মো. ইদ্রিছ. মো. ইদ্রিছ আলম, গুলজার হোসেন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মো. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন