সর্বশেষ

১ আগস্ট থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ ঘোষণা

কমিশন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ১ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

শনিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার বেতগাড়িতে সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই সমিতির নেতারা এ দাবি জানান।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যার্জেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির নেতারা এর আগে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দেয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মিজানুর রহমান রতনের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল জ্যোতি, রাজশাহী জেলা সভাপতি মনিরুল হক, নির্বাহী সদস্য মো: খায়রুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের সহ-সভাপতি আলী আকবর, রফিকুল ইসলাম, জুবায়ের আহম্মেদ, এমদাদ আহমেদ বাবু, আলী হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন রকম ট্যাক্স, লাইসেন্স, ছাড়পত্র ফিলিং স্টেশন সমূহ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন তেল কোম্পানি থেকে উত্তোলনপূর্বক নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রয় করা হয়ে থাকে। ফিলিং স্টেশন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, অথচ কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতর তাদের লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ফিলিং স্টেশন সমূহকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশ অধিদফতর তাদের লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ফিলিং স্টেশন সমূহকে চাপ প্রয়োগ করছে। ফিলিং স্টেশনের প্রবেশ দ্বার সড়ক ও জনপথের জায়গা ব্যবহারের জন্য সড়ক ও জনপথ ফিলিং স্টেশন সমূহকে জমির ইজারা গ্রহণের চাপ প্রয়োগ করছে। অথচ ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহকারী সকল গাড়ির বিআরটিএ-এর রোড পারমিট রয়েছে এমনকি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরিরও রোড-পারমিট রয়েছে, তারপরও সড়ক ও জনপথের ইজারা গ্রহণ কেন করতে হবে। ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি স্টোরেজ ট্যাংক বা আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক যা ভূগর্ভে স্থাপিত। আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক কোনো পরিমাপ যন্ত্র নয়। তাছাড়া এটা ভোক্তাদের স্বার্থের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয় যা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার সুযোগ নেই। অথচ বিএসটিআই ওই আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক প্রতি বছর ক্যালিব্রেশন করার জন্য ফিলিং স্টেশন সমূহকে চাপ প্রয়োগ করছে।

উল্লেখিত বিষয়সহ আরো বিভিন্ন সরকারি সংস্থা হতে তাদের লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ফিলিং স্টেশনসমূহকে যে চাপ সৃষ্টি করছে তাতে অচিরেই এ ব্যবসাটি কঠিন সঙ্কটে নিপতিত হবে এবং এই সকল সংস্থার সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া আনুসঙ্গিক ব্যয় বহুলাংশ যা বহন করা জ্বালানি ব্যবসায়িদের জন্য একেবারেই অসম্ভব। তাই জ্বালানি ও ট্যাংকলরী ব্যবসার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব ঠিক রাখতে হলে অচিরেই বিষয়গুলির একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত।

তারা আরো বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২৫ বছরের অধিক পুরাতন ট্যাংকলরীর সকল কাগজপত্র বিআরটিএ নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাংকলরির ইকোনমিক লাইফ ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্যাংকলরি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সতন্ত্র সিরিজ নির্ধারণ করা আছে। আমাদের ট্যাংকলরি জ্বালানি তেল পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো পণ্য পরিবহন করে না। অপরদিকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের মতো একই সিরিজে রেজিস্ট্রেশন হয় না। তাছাড়া ট্যাংকলরি অনওয়ে সার্ভিস, তারা খালি আসে ভর্তি নিয়ে যায়। সপ্তাহে ট্যাংকলরিসমূহ দুই থেকে তিন দিন জ্বালানি তেল নিয়ে যায়, বাকি দিন তারা বসে থাকে। কাভার্ডভ্যান যদি ২৫ বছর ইকোনমিক লাইফ পায় তাহলে অনায়াসেই ট্যাংকলরি ৭৫ বছর পাওয়ার দাবি রাখে। তাই সেবাধর্মী কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি একটি বিশেষায়িত পরিবহন হিসেবে ট্যাংকলরির ইকোনমিক লাইফ ৫০ বছর করার জন্য তারা দাবি তুলে ধরেন।

কমিশন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তারা বলেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টজন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বারবার দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্যে যখন ৬০ টাকা ছিল তখন যে হারে কমিশন প্রদান করা হতো, তেলের মূল্যে দ্বিগুন হওয়ার পরও প্রায় একই হারে কমিশন প্রদান করা হচ্ছে। অথচ তেল ক্রয়ে ডিলার বা এজেন্টদের দিগুন ইনভেস্টমেন্ট করতে হচ্ছে। একইসাথে জিনিসপত্রের মূল্যে ঊর্ধ্বগতির ফলে কর্মচারীর বেতন অনেকাংশ বৃদ্ধি করতে হয়েছে এবং সকল লাইসেন্স ফি প্রায় দিগুন করা হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিসহ ট্যাংকলরির পার্টসের মূল্যে দ্বিগুন হয়েছে। পাশাপাশি যেখানে অটো গ্যাস স্টেশন এলপিজি প্রতি লিটার ৪৬ টাকা ৫০ পয়সা করে বিক্রয় করে আট টাকা অর্থাৎ ১৭ শতাংশ কমিশন পাচ্ছে। সেখানে ১৩০ টাকা পেট্রোল বা অকটেন বিক্রয় করে চারটাকা অর্থাৎ তিন শতাংশ কমিশন আমাদের দেয়া হচ্ছে। ফলে এলপিজি থেকে প্রায় তিনগুন বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের নূন্যতম কমিশন দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও তেলের অস্বাভাবিক মূল্যে বৃদ্ধির পর থেকে তেল বিক্রয় অর্ধেকে নেমে গেছে। তাই ব্যবসায় টিকে রাখতে হলে তিন দফা বাস্তবায়ন জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন