সর্বশেষ

নির্বাচন সামনে রেখে  দাবি আদায়ে বিভিন্ন পেশাজীবিরা মাঠে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। তাই নির্বাচনের আগে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নেমেছেন ডাক্তার, শিক্ষক এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কর্মবিরতি এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দাবি মেনে না নিলে নির্বাচনের আগে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণারও হুমকি দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে। কারণ এ সময় সরকারও কিছুটা নমনীয় থাকে। সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি দেয়। তাই এবারও দাবি আদায়ে এই সময়টা বেছে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে আমরণ অনশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির সব শিক্ষকের দাবি রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। আর নন-এমপিও শিক্ষকরা চান এমপিওভুক্তি। এ বছর সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির মতো বেতন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন এমপিও শিক্ষকরা।
এমপিওভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী শিক্ষকরা। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ কোনো কিছুই তাদের বিরত রাখতে পারছে না।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি মো. বজলুর রহমান জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই অ্যাকাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড়সম বৈষম্য। তাছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেলের একধাপ নিচে প্রদান করা হয়।
গত ১৩ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সম্মেলন হয়। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সামনে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ, পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা প্রদানসহ আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনে রয়েছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরাও। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের দাবিতে গত ৪ মার্চ থেকে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। তারাও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন। তিন ধাপে জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কিছু কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
১৯৯৪ সালে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন মাসিক মাত্র ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। এভাবে একই ধারায় চলতে থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ও রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সরকার ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করলেও উপেক্ষিত থাকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো। প্রায় তিন দশক ধরে পাঠদান করেও বেতনবঞ্চিত রয়েছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার ২০ হাজার শিক্ষক। তাই জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে রয়েছেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরাও। শনিবার দেশের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইবতেদায়ি স্তরকে জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ।
ইসলামী শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশের সভাপতি ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার প্রাইমারি স্কুল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে। এ ছাড়াও এনজিও পরিচালিত হাজার হাজার স্কুল উপজেলা প্রশাসন থেকে কোড নাম্বার নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। অথচ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ৬৮৮২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বাস্তবতার আলোকে বলা যায়, মাদরাসা শিক্ষাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে জাতীয়করণের আওতায় নেওয়া জরুরি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তারাও আন্দোলনের মাঠে রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরাও এখন দশম গ্রেডে বেতন দাবি করছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা একই। ১৯৭৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা একই গ্রেডে বেতন পেতেন। প্রধান শিক্ষকরা একটি ইনক্রিমেন্ট বেশি পেতেন। যেহেতু সবার যোগ্যতাই এক, তাই বেতন-গ্রেডও এক হওয়া উচিত।
আন্দোলনে রয়েছেন অনার্স-মাস্টার্স কলেজের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক। তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত থাকলেও তাদের পদগুলো এমপিও-প্যাটার্নে নেই। দীর্ঘদিন ধরে তারা কলেজের দেওয়া নামমাত্র বেতনে চাকরি করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে চাকরি স্থায়ী করার দাবি এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন কর্মচারী নিয়োগের প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের অস্থায়ী শ্রমিকবৃন্দ’ ব্যানারে কারওয়ান বাজারে এফডিসি-সংলগ্ন রেলগেটে অবস্থান নিলে নারায়ণগঞ্জ বাদে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে আন্দোলনকারীরা প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনের মাস্টার আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রেল শ্রমিক সাহাবুদ্দিন মুন্না ও সাহেদ আলী জানান, তাদের চাকরির বয়স ৬ বছর হলেও এখনও স্থায়ী করা হয়নি। অথচ অস্থায়ী ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে নতুন করে কর্মচারী নিয়োগের ঘোষণায় তারা প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। পরে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অবরোধের স্থান ত্যাগ করে রেলভবনে যান শ্রমিকরা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত ছিল জুন মাসের পরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। সেই আউটসোর্সিং কোম্পানির জন্য টেন্ডার ডকুমেন্টে শর্ত দিয়েছি আমরা অভিজ্ঞ লোক চাই। যারা আন্দোলন করছে তাদের আমরা অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট দেব। পাশাপাশি আউটসোর্সিং কোম্পানিকে বলব যেন তাদের তারা নিয়োগ দেয়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক নিযুক্তিতে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো একটি স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট দেওয়া এবং ডিজাইন ও প্ল্যানিং বিভাগে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের সহকারী প্রকৌশলীদের মতো তিনটি স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট দেওয়া; পদোন্নতির কোটা ৫০ শতাংশে উন্নীতকরণ; বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভিস রুল অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে পদোন্নতি দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ। আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকায় সমাবেশ করবে সংগঠনটি। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া মাসিক বেতন-ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করার দাবিতে রোববার রাজধানীর শাহবাগের এক পাশের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। এ সময় শাহবাগে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এর আগে রোববার সকালে শাহবাগ মোড়ে তাদের অবস্থান কর্মসূচি করার কথা থাকলেও পুলিশের বাধায় সেখানে অবস্থান করতে পারেননি তারা। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা বলেন, পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকরা ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি। মাত্র ২০ হাজার টাকায় সংসার চালাতে পারেন না। তাই ভাতা ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করার দাবি জানানো হয়েছে। পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক ডা. রাশিদা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভাতা বাড়ানোর জন্য শান্তিপূর্ণভাবে দাবি করে আসছি। স্বাস্থ্য অধিদফতর, মন্ত্রণালয়, বিএমডিসি সব জায়গায় আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিয়েও এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদের আশ্বাসের কোনো বাস্তব রূপ আমরা দেখছি না। আমাদের ন্যায্য দাবিতে আমরা সবার কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। ফলে আমরা আবারও কর্মবিরতিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছি। গত নয়দিন ধরে রাস্তায় আন্দোলন করছি; কিন্তু সরকারের কেউ আমাদের দিকে তাকিয়েও দেখেনি, কেন আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের কাজের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা নেই। আমাদের কোনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়। তবুও আমাদের বলা হচ্ছে আমরা কোনো চিকিৎসক নই।
ডা. রাশিদা সুলতানা বলেন, আজ আমাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের অবদান কোথায় নেই। এ জন্যই দেশ স্বাধীন হয়েছিল, আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আমরা এ হামলার বিচার চাই। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না। আমাদের ওপরে গুলি চালাতে পারেন, মারতে পারেন। প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও দাবি আদায় করে ছাড়ব।
রোববার দুপুর ১টার দিকে বিএসএমএমইউর ভেতর থেকে শাহবাগে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ ও চিকিৎসকদের মাঝে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগও করেন তারা। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের আশ্বাসে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। পরে বিকাল ৪টার দিকে বিএসএমএমইউ উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসকদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে ফিরে এসে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য স্যার আমাদের লিখিত আশ্বাস দিয়েছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং সুখবর জানাবেন।
তিনি আরও বলেন, উপাচার্য স্যারের আশ্বাসে আমরা এখন রাস্তা ছাড়ছি। তবে প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। অন্যদিকে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। রোববার রাতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. বায়েজীদ খুরশীদ রিয়াজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সবাইকে আমরা এটি নিশ্চিত করছি। তবে ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে ডেঙ্গু বিষয়ক এক আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন আন্দোলনরত চিকিৎসকদের ধারাবাহিক কর্মসূচির সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা বাড়ানোর দাবি দাওয়ার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। এটি বাস্তবায়ন হোক তা আমরাও চাই। সরকার বলছে, এর জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। এটি প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাবে, সেখান থেকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে পাস হওয়ার পর এর গেজেট প্রকাশ করা হবে। এখানে সময়ের বিষয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও তারা মানল না। এটি ঠিক নয়।
গত ৮ জুলাই থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও নিয়মিতকরণের দাবিতে আন্দোলনরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনের (বিসিপিএস) অধিভুক্ত পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা গণ-অনশন ও কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে শাহবাগ ও বিএসএমএমইউতে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও পেশ করেন তারা।

আরও পড়ুন