প্রাযুক্তিক অবক্ষয়ের শিকার যুব তরুণদের মাঝে সুস্থ মননশীল নির্মল সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়া, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন থামানো এবং তারুণ্যের শক্তিকে দেশ জাতি গঠনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানোর মধ্যদিয়ে হিজরি নববর্ষ ১৪৪৫ কে বরণ করা হয়েছে। হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আজ ১৯ জুলাই বুধবার বিকেলে নগরীর বহদ্দারহাটস্থ আরবি কনভেনশন হলে হিজরি নতুন বছর বরণ ও ১৪৪৪ বছরকে বিদায় জানানো হয়। হামদ্, না’তে রাসূল (দ.),জাতীয় সঙ্গীত, গজল, বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, নজরুল সঙ্গীতসহ উজ্জীবনধর্মী নানা গান ও সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে হিজরি নতুন বছরকে বরণ করে নেন বিভিন্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের খুদে শায়ের ও শিল্পীরা। হাজারো দর্শক শ্রোতা মোহাবিষ্ট হয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। সঙ্গীতের সুর মূর্ছনায় ভিন্ন আবহ ও আমেজ ছড়িয়ে পড়ে হলজুড়ে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে চলে কথামালা ও আলোচনা। এতে সভাপতিত্ব করেন হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান পীরজাদা মাওলানা মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ্। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুব তরুণরাই দেশের বড় সম্পদ। অথচ তারা আজ নানাভাবে অবক্ষয় ও বিপথগামিতার শিকার। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিকে জ্ঞান অর্জনে ও আত্মগঠনে কাজে না লাগিয়ে তারা প্রাযুক্তিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত। বিশাল তারুণ্যের শক্তিকে অবক্ষয়ের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয় চেতনাধর্মী সুস্থ নির্মল সংস্কৃতি সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয়ের রাশ টেনে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক সমাজসেবী মুহাম্মদ আলমগীর পারভেজ। মুখ্য আলোচক ছিলেন গবেষক-সংগঠক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, হিজরি নববর্ষ উদ্যাপন পরিষদের মহাসচিব মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আহলে সুনাত ওয়াল জামাআ’ত এর কো-চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ সোলায়মান আনসারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা তৈয়ব আলী, আল্লামা আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবাইর রেজবী।
প্রধান অতিথি মাওলানা এম এ মতিন বলেন, কোটি তরুণ যুবক আজ বেকারত্বে ধুঁকছে। তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগাতে বড় কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না। যুব তরুণদেরকে আদর্শিকভাবে উজ্জীবিত ও তাদের চরিত্র গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। সুস্থ নির্মল সংস্কৃতিকে প্রসারিত করার মাধ্যমে আদর্শ সুনাগরিক সৃষ্টির ধারা বেগবান করতে হবে।
উদ্বোধক আলমগীর পারভেজ বলেন, চট্টগ্রাম সবার আগে। হিজরি নববর্ষ উদযাপনেও চট্টগ্রাম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একদিন এই হিজরি নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
মুখ্য আলোচক এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, ১ জানুয়ারি থার্টি ফার্স্ট নাইটে যে হৈ হুল্লোড় উম্মাদনা চলে তা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়। তা ভিন্নধর্মী অপসংস্কৃতি। একটি জাতিকে আদর্শিকভাবে এগিয়ে নিতে আগে তার নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হয়। আমাদের ইসলামী কৃষ্টি সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ। তাই ইসলামী সংস্কৃতিকে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরতে পারলে জনমনে ইসলামী ভারধারা তৈরি হবে এ আশা করা যায়। ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠী মুসলমানদের সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংস করতে অপসংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আশরফ শাহ্ বলেন, অপসংস্কৃতি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রাবল্যে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা আজ কোণঠাসা হয়ে উঠেছে। আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই চৌদ্দ বছর ধরে চট্টগ্রামে আমরা হিজরি নববর্ষ উদযাপন করে আসছি। ইসলামী কৃষ্টি সংস্কৃতিকে বাংলা ভাষায় মোহনীয়ভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক ছিলেন মাওলানা এম এ মাবুদ,মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নূর হোসাইন, আবু নাসের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, মাষ্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন, অধ্যাপক মীর আব্দুর রহিম মুনিরী, আলী হোসেন, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, মুফতি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া আজহারী, মাওলানা হাসান আল-আজহারী, আবদুল করিম সেলিম, মুফতি ইকবাল হোসেন আল-কাদেরী, জি এম শাহাদাত হোসেন মানিক, এমরানুল ইসলাম, হাবিবুল মোস্তাফা সিদ্দিকী, সরওয়ার উদ্দীন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল জাবের, কাজী মুহাম্মদ আরাফাত, নূর রায়হান চৌধুরী, সৈয়দ সালাউদ্দিন খোকন, বদরুল হুদা তারেক, ওসমান গনি কাদেরী, মহিউদ্দিন তানভীর, সাইফুল ইসলাম, মুহাম্মদ মিনহাজুল আবেদীন, আবরার উল্লাহ সাদমান প্রমুখ। মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি সমৃদ্ধি এবং অশান্তি হানাহানি থেকে বৈশ্বিক পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত করা হয়। হাজারো শ্রোতা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সর্বশেষ
জাতীয় চেতনাধর্মী নির্মল সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়ে অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয়ের রাশ টানতে হবে
