সর্বশেষ

চবিতে কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লেন ছাত্রলীগ সভাপতি!

নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বিতর্কিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে চবির জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৯ জুন তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে আছে ছাত্রলীগের উপপক্ষ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) এবং বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

তবে ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নাকচ করে চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কোনো ঝামেলা হয়নি। বিজয় ও সিএফসি উপপক্ষের কিছু ছেলে পথভ্রষ্ট। তারা জামায়াত-বিএনপির বিরুদ্ধে কর্মসূচি সহ্য করতে পারেননি। এ কারণে তারা ঝামেলা করার চেষ্টা করেছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। আমি ক্যাম্পাসেই আছি। কোনো ধাওয়া বা ঝামেলা হয়নি।’

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ফিরে মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে তার অনুসারীদের নিয়ে ‘জামায়াত শিবির ও বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ’ করছিলেন রেজাউল হক রুবেল। বিষয়টি ফেসবুক লাইভ করছিলেন তিনি। সমাবেশের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয়, ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) ও নিজ গ্রুপ সিএফসির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দেন।

সিএফসি গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মির্জা খবির সাদাফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘চবি ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে অনেক আগে ক্যাম্পাস থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তিনি দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে এসে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। তখন আমরা তাকে প্রতিহত করি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বাতিল চেয়ে নতুন কমিটির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আরেক উপপক্ষ ভার্সিটি এক্সপ্রেস বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। পরে দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে ফটকের তালা খুলে দেন নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর সৌরভ সাহা বলেন, ‘ছাত্রদের বুঝিয়ে হলে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন শান্ত।’

এক বছর মেয়াদের কমিটি চার বছর পার করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভার্সিটি এক্সপ্রেস উপপক্ষের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ গতি হারিয়ে ফেলেছে। কর্মীদের রাজনৈতিক স্পৃহা নষ্ট হচ্ছে। নতুন কমিটি না দিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে।’

চবি সূত্র জানায়, সভাপতি রেজাউল হকের বিরুদ্ধে বয়স শেষ হওয়ার পরও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থাকা, ছাত্রত্ব না থাকার পরও বছরের পর বছর আবাসিক হলের কক্ষ দখল করে থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। কর্মীকে দিয়ে পা টেপানো, পরিকল্পিতভাবে নিজের অনুসারীকে কুপিয়ে জখমসহ বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচনার পর ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন রেজাউল হক। তবে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকে কিছু কর্মী নিয়ে আবার সংগঠিত হচ্ছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে ‘বিএনপির নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ছাত্রসমাবেশ করার ঘোষণা আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজাউল তার অনুসারীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন।

আরও পড়ুন