সর্বশেষ

মহাসমাবেশ ঘিরে ঢাকার পথে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা

আগামীকাল ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে স্বল্প সময়ের আল্টিমেটাম দিয়ে বিরতিহীন কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি। পর দিন শুক্রবারও থাকতে পারে বিক্ষোভ কর্মসূচি।
শনিবার পবিত্র আশুরার কারণে বড় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও রোববার থেকে টানা অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। এক দফা দাবি আদায়ে এখন থেকে ঢাকার রাজপথ না ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে এমন স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
স্থান ঠিক না হলেও আগামীকালের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে-এমন শঙ্কায় তারা আগেভাগে ঢাকায় চলে আসছেন। ঢাকায় আত্মীয়স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এখনও মহাসমাবেশের স্থান ঠিক হয়নি। বুধবার তা জানা যাবে। তবে আমরা নয়াপল্টনেই করতে চাই। এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইতিমধ্যে নেতাকর্মী, সমর্থকরা ঢাকায় চলে এসেছেন। আশা করি, স্মরণকালের সেরা জমায়েত করতে পারব আমরা।
তিনি বলেন, এক দফার সব কর্মসূচি হবে ঢাকাকেন্দ্রিক। সরকারকে আর কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। নতুন নতুন কর্মসূচি আসবে- আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে মহাসমাবেশের জন্য ঢাকায় চলে এসেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।
তিনি বলেন, আমরা যার যার মতো করে ঢাকায় চলে এসেছি। আজ ও কাল সব চলে আসবে। বিশেষ করে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং দলের ব্যবসায়ীরা নেতাকর্মীদের সার্বিক খরচ বহন করছেন।
তিনি বলেন, সরকার যদি মহাসমাবেশের জোয়ারেও কর্ণপাত না করে, তা হলে ঢাকামুখী লংমার্চ, রাজপথে টানা অবস্থান কর্মসূচি কিংবা গণভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি চাই আমরা। এ ছাড়া সরকারকে সরাতে বিকল্প পথ নেই।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী জানান, মহাসমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। এবার যাতায়াতের জন্য বিকল্প পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। পুলিশ যাতে পথে পথে তল্লাশির নামে হয়রানি করতে না পারে তার বিকল্প পন্থাও আমরা খুঁজছি। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকরা ঢাকায় আসবেন।
পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে গতকাল শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানান, মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে একটি পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হবে। স্বল্প সময়ের আল্টিমেটাম দিয়ে এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপে যাওয়া হবে। সেটি ৪৮ কিংবা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার সরকার যদি ঝামেলা না করে তা হলে এক রকমের বার্তা আসবে, আর ঝামেলা করলে ভিন্ন বার্তা আসবে।
তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা এখন থেকে ঢাকার রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়া। রোববার থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দেওয়া। সেটা হতে পারে অবস্থান কিংবা বিক্ষোভ সমাবেশ। তবে অঘোষিতভাবে বসে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা পরের কর্মসূচিগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাঠে নিয়ে আসব। এখন থেকে সেই প্রস্তুতিও চলছে।
বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির একজন সদস্য জানান, তারা বিভিন্ন প্রস্তাব পাচ্ছেন যুগপৎ শরিকদের কাছ থেকে। তবে বেশিরভাগের মত আল্টিমেটাম নিয়ে। কেউ ২৪, কেউ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের কথা বলছে। এটি বুধবার নীতিনির্ধারকরা বসে ঠিক করবেন। শরিকরা বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে সন্তুষ্ট। তারাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন লোক জমায়েতের।
আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ২৭ তারিখের মহাসমাবেশ হবে জনতার মুক্তির মহাসমাবেশ। এ মহাসমাবেশে জনতার রাজপথ জনগণই দখল নেবে। জনগণ এ সরকারকে সরিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা করবে।
গত ১২ জুলাই নয়াপল্টনে সমাবেশ থেকে ১৮ ও ১৯ জুলাই ঢাকাসহ দেশব্যাপী দুই দিনের পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের পদত্যাগের এক দফার আন্দোলনে নামে বিএনপি। এরপর গত ২২ জুলাই সোহরাওয়ার্দীতে তারুণ্যের সমাবেশ থেকে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
ওই দিন যুগপৎভাবে শরিক দল এবং জোটগুলোও ঢাকায় পৃথকভাবে সমাবেশ করবে। অন্যদিকে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ করতে গত সোমবার পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। ডিএমপি কমিশনার বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লিখিত দুটি স্থানের যেকোনো একটিতে মহাসমাবেশ করার কথা জানায় দলটি। যদিও এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য আসেনি।

আরও পড়ুন