সর্বশেষ

বিএনপির বড় কর্মসূচিতে মানে মামল

ঢাকার প্রবেশমুখে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ১৪টি মামলায় বিএনপির ৭২৪ নেতাকর্মীকে আসামি করেছে পুলিশ। সংখ্যায় আরও বেশি দাবি করছে বিএনপি।এই চিত্র শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশে।
এ ছাড়া দলটির দাবি, গত ১৯ মে থেকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৩২০ মামলায় আসামি করা হয় প্রায় ১০ হাজার ৪৫০ নেতাকর্মীকে। যেখানে গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৫১৪ জন। নির্বাচনের আগে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে মামলা। একদিকে মামলা নিয়ে যেমন আইনি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তেমনি রাজপথেও সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বিএনপি বলছে, এসব মামলার উদ্দেশ্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীকে চাপে রাখা ও আন্দোলন দমানো। সেই সঙ্গে যখনই বড় কর্মসূচি আসে, তখনই পুরোনো মামলাগুলো গতি পায়। তবে মামলা দিয়ে পথ কঠিন করলেও মাঠ ছাড়বেন না তারা।
শনিবার কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৯টি থানায় ১৪টি মামলা এবং সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭২৪ জনকে। গত সোমবার পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২০৯ জনকে। যদিও বিএনপি দাবি করছে, তাদের প্রায় ৫০০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলটির দফতর সূত্র বলছে, গত বছর বিভাগীয় সমাবেশ চলাকালে নেতাকর্মীদের নামে মামলা বেড়েছে, গ্রেফতারও হচ্ছে। গত সাড়ে ১৪ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মামলা করা হয়েছে। এতে আসামি প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মী।
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, কর্মসূচি হলে এসব মামলা খুবই স্বাভাবিক। সরকার পুলিশের পাশাপাশি মামলাকে বিএনপি দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বিএনপি এত বছর এসব মামলা মোকাবিলা করে মাঠে টিকে আছে, আর কয়েক মাস ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে। তার মতে, মার্কিন ভিসানীতির কারণে এসব মামলা আদালতে শেষ পর্যন্ত টিকবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর একটি মানহানি মামলার প্রসঙ্গ টানেন। রুমিন ফারহানা জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদনের এক দিন পর তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বিচারক এ মামলা ‘আমলে’ নেওয়ার মতো আইনি ভিত্তি নেই বলে তা খারিজের আদেশ দেন। এমন চিত্র যা কয়েক মাস আগেও দেখা যায়নি। এগুলো ভিসানীতির প্রভাব। বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শনিবারের ঘটনায় মামলাগুলো করা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপে রাখার জন্য। এসব মিথ্যা মামলা আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।
বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, মামলা এক ধরনের চাপ। কিন্তু বিএনপি এ চাপ খুব একটা অনুভব করছে না। কারণ দেয়ালে নেতাকর্মীদের পিঠ ঠেকে গেছে। আর শনিবারের ঘটনায় মামলা হবে-এমন মানসিক প্রস্তুতি আমাদের ছিল। মামলা দিয়ে পথ কঠিন হচ্ছে, কিন্তু আন্দোলনের মাঠ থেকে সরানো যাবে না। পিছু হটার সুযোগ নেই আমাদের। তিনি বলেন, আইনিভাবে মোকাবিলা ছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই। কারণ পাল্টা মামলা করেও লাভ নেই।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  বলেন, নির্বাচনের আগে মামলা বাড়বে এটা ধরেই নেওয়া যায়। মামলা বাড়লেও আন্দোলনের গতি শ্লথ হবে না। বরং আরও বেগবান হবে। নেতাকর্মীদের মধ্যে জেদ কাজ করবে। আমরা আইনগতভাবেই মামলা মোকাবিলা করব।
এদিকে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ‘নীলনকশা’ অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সাজা দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে তারেক রহমানের সাজা হলেও তা চলমান আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশে লাখ লাখ মামলার জট থাকলেও এ মামলায় মাত্র ১৬ দিনে ৪২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত একতরফাভাবে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকার বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি তালিকা করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের মামলা দ্রুত শেষ করতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। ইতিমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহকে সাজাও দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে মামলার বোঝা সামাল দিতে দলের আইনজীবী সেলকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। গত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মামলা ও আইনজীবী সেলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে সরাসরি হাইকমান্ড থেকে মামলা মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন