আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হিজাব আইন নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে ইরান। কোনো নারী হিজাব না পরলে তাকে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাতে বাধ্য করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, বিচার বিভাগ তার নিজের উদ্দেশ্য হাসিলে মানসিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যদিও ইরান কর্তৃপক্ষের হিজাব আইন অমান্য করছে দেশটির অনেক নারী। সম্প্রতি ইরানি অভিনেত্রী আফসানে বায়েগান হিজাব না পরে চুল দেখা যায় এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে এবং হিজাবছাড়া একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এ নিয়ে আফসানে বায়েগানকে দুই বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেন দেশটির আদালত। সেইসঙ্গে প্রতি সপ্তাহে একদিন তাকে বাধ্যতামূলকভাবে মনোবিদের দ্বারস্থ হয়ে কাউন্সেলিং নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে তেহরানে আরেক নারী হিজাব ছাড়া গাড়ি চালালে তাকেও সাজা দিয়েছেন দেশটির এক আদালত। তাকে এক মাসের জন্য মর্গ পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাশা আমিনি নামে এক তরুণীকে ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগে দেশটির নীতি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর কয়েকদিন পরেই পুলিশি হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু ঘিরে ইরানজুড়ে কয়েক মাস ধরে চলে তুমুল বিক্ষোভ। তখন থেকেই ইরানের অনেক নারী হিজাব পরা বাদ দেয়। এর এক বছরে পূর্তির আগে দেশটি হিজাব আইন আরও কঠোর করছে।
ইরানি একজন বিশেষজ্ঞ ও প্যারিস সিটি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আজাদেহ কিয়ান বলেন, বায়েগানকে দেওয়া সাজা সরকারের একটি উদাহরণ। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না।
দেশটির আরেক অভিনেত্রী আজাদেহ সামাদিকেও এক দাফনকার্যে হিজাবের পরিবর্তে টুপি পরায় সাজা দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচারকরা তাকে অসামাজিক ব্যক্তিত্বের ব্যাধিতে আক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে। এ নিয়ে তাকে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতি সপ্তাহে থেরাপি নিতে বলা হয়েছে।
