ডিমের বাজারে কারসাজি বন্ধ করতে অভিযানও পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার। অভিযানের পরেও কমেনি দাম। কর্তৃপক্ষের অভিযানে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন দাবি করে শনিবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ডিম বেচাকেনা বন্ধ রেখেছে পাহাড়তলীর ডিম ব্যবসায়ীরা।
আড়তদারদের দাবি, সরকার খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম ১২ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু তাদেরকেই ১১.৭০টাকা থেকে ১১.৮০ টাকায় ডিম কিনতে হচ্ছে। তাহলে খুচরা বাজারে ১২ টাকায় ডিম বিক্রি কীভাবে সম্ভব? তার উপর রশিদের সিরিয়াল নম্বর ঠিক না থাকায় জরিমানা করা হচ্ছে। এক কথায় প্রশাসন অযৌক্তিকভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে বিনা দোষে ‘অসাধু ব্যবসায়ী’ আখ্যা দেয়া হচ্ছে। কাজেই ডিম বেচাকেনায় সুষ্ঠু নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা প্লাবন কুমার বিশ্বাসের মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল শুক্কুর বলেন, আমরা ক্রয়-বিক্রয় দুটোই রশিদ রাখি। আমাদের এখানে কঠোরতা না দেখিয়ে তিনটা জায়গায় প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রথমত, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কারণ, ওরা খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ডিমের দামে। দ্বিতীয়ত, টাঙ্গাইলের মধ্যস্বত্ত্ব ব্যবসায়ীরা একটা সিন্ডিকেট করে ডিমের দামে কারসাজি করছে। তৃতীয়ত, মেসেজের মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ হয়। এটা কে বা কারা করে আমাদের জানা নেই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অথচ, প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার বিনা অপরাধে হয়রানি করছে আমাদেরকে। তাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা ডিম বিক্রি বন্ধ রাখবো।
তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ডিমের আড়তে আমাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনও অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের কারণে ডিম বেচাকেনা বন্ধ রাখা মানে আইনকে বাধাপ্রাপ্ত করা। আমরা অভিযানে গিয়ে দেখেছি আড়তদারের মূল্যতালিকা আপডেট নাই, ভাউচারও রাখছে না। আমরা কিভাবে বুঝবো ডিমের প্রকৃত দাম কত? অভিযান পরিচালনার সময় অনেকে দোকানে তালা লাগিয়ে চলে যান। অনেকে ভাউচার নিজে লিখছে। এগুলোকে যদি তারা অন্যায় মনে না করে ডিম বিক্রি বন্ধ রাখে তাহলে ঠিক করছে না। আড়তদারদের উচিত, তারা যাদের কাছ থেকে ডিম কিনে তাদের সাথেই যেন একটা সমাধান করে নেয়। ডিম কেনার সময় পাকা ভাউচার সংগ্রহ করে। তাহলে আর সমস্যা থাকবে না।
গত ১২ আগস্ট ভোক্তা অধিকারের অভিযানের খবর শুনে দোকানের বাইরে তালা লাগিয়ে পালিয়েছিলেন পাহাড়তলী বাজারের জৈনপুর ট্রেডার্স নামে এক আড়তের মালিক। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকা আড়তের ম্যানেজারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মূল্য তালিকা না থাকা ও ক্রয়-বিক্রয় রশিদে গড়মিল পাওয়ায় ওই বাজারের আরেক প্রতিষ্ঠান জান্নাত ট্রেডার্সকেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে গত ১৪ আগস্ট খালি ভাউচারে ‘ইচ্ছে মতো’ কেনা দাম বসিয়ে ডিম বিক্রির অপরাধে ওই বাজারের আরও এক আড়তদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সবশেষ ২২ আগস্ট সেখানে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। এসময় মূল্য তালিকা না মেনে অধিক দামে ডিম বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয় রসিদ না থাকায় তিন পাইকারি বিক্রেতাকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
