চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি এবং তাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বীরা আবারো মাঠে নেমেছে। এই অবস্থায় দ্বিধাহীন চিন্তে বলতে চাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ যেকোনভাবে বাধাগ্রস্থ হলে সেজন্য দায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তির তাবেদারদের বিতারিত করা হবে।
তিনি আজ শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনোপলক্ষে পাঁচলাইশ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুরাদপুর চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আজ একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বিএনপি জামায়াত সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের কথা মুখে বললেও তারা আসলে নির্বাচনী মাঠে না থেকে আন্দোলনের নামে রাজপথে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। এমনকি আবারও জ্বালাও পোড়াও ও আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের যে কুঅভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে তার পুনরবৃত্তির মহড়া যেকোন মুহুর্তে শুরু হতে পারে। তার আগেই আমাদেরকে তাদের চিহ্নিত ঘাটিগুলো উপড়ে ফেলতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, বলতে লজ্জ্বা হয় আমাদের দেশের কথিত সুশীল সমাজ তাদের বুদ্ধি বিবেক বিদেশীদের হাতে সমর্পন করেছেন। যেই ব্যক্তিটি নোবেল বিজয়ের খেতাব পেয়েছেন সেই লোকটি মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করেন না। সংবিধান মানেন না এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আছে বলে মনে করেন না। এই লোকটি কখনো শহীদ মিনারে যাননি। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান নি। এই মানুষটি বুদ্ধি বিবেকসহ সবকিছুই জাতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তার নামে গরীবদের ফাঁদে ফেলে তাদের জান-মাল কেড়ে নিয়েছেন। এমনকি সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকা অবস্থায় সরকারি খাত থেকে বেতন নিয়েও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে বিনিয়োগ করে ব্যবসা পাতি করেছেন।
এই লোকটিকে বার বার গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি করার জন্য বিশ্বব্যাংক ও আমেরিকার চাপ ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি ব্যাংকে ষাটোর্ধ ব্যক্তি এমডি হতে পারেন না। তারপরও ষাট বছর পেরিয়ে যাবার পরও আরো ১০ বছর তিনি এমডি ছিলেন। তাকে এই পদ থেকে সরানো হলে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকেছিলেন। ওই মামলায়ও তিনি হেরেছেন। তারপর আমেরিকা ও বিশ্বব্যাংকের পদলোহন করে এমডি পদ ভিক্ষা চেয়েছিলেন। তাতেও তিনি সফল হন নি। এজন্য তিনি তার বিশেষ বান্ধবী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনের আদেশে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু নিজস্ব অর্থায়নে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন।
তিনি প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশকে কেউ দাবীয়ে রাখতে পারবে না। তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা নসাৎ করার জন্য নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে প্রতিটিক্ষণ, প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘন্টা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জানান দিতে হবে ৭১ এর মতো আরেকটি বিজয় অর্জিত না হলে বাঙালি জাতিসত্তার অস্তিত্ব মুছে যাবে। চট্টগ্রাম মহানগর কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আহমেদুর রহমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে, রফিউল হায়দার রফি ও এস.এম. বাবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, ত্রাণ সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাজী মোঃ হোসেন, উপ প্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আমিনুল হক, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, মহানগর যুবলীগের নুরুল আনোয়ার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আনোয়ার হোসেন বাপ্পী, যুবলীগের সাখাওয়াত হোসেন সাকু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শেখ সরওয়ার্দী, এম.এ রহিম, কাউন্সিলর মোর্শেদুল আলম, মহিলা কাউন্সিলর জেসমিন পারভিন জেসী, যুবনেতা সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, ওহিদুল আলম শিমুল। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য বখতেয়ার উদ্দীন খান, থানা আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম কায়সার, এস.এম. হাসেম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাজী রাশেদ আলী জাহাঙ্গীর, আতিকুর রহমান আতিক প্রমুখ।
