একটি শিশু। জাতির ভবিষ্যৎ র্কণধার। তাকে দিতে হবে একটি সুন্দর পৃথিবী।একটি সুন্দর পরিবেশ যেখানে সে শিখবে আনন্দের সাথে, খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে। সে কল্পনা করতে শিখবে, সে চারপাশের পরিবেশের সাথে পরিচিত হবে। সে গুণতে শিখবে, সে কাঠি, ফুল, পাতা দিয়ে বিভিন্ন পাখি, নকশা, ঘড়ি, চশমা ইত্যাদি আরও মজার মজার জিনিস বানিয়ে আনন্দ পাবে। সে নান্দনিক ও সৃজনশীল মনোভাবাপন্ন হবে। সে রং করবে বইয়ের পাতায়, নিজের খাতায়। সে বইয়ের নানা গল্প দেখে, শুনে, বলতে পারবে। সেই সাথে নিজের কিছু কল্পনার রং মিশাবে। সে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি সচেতন থাকবে। তার নীতিবোধ জন্মাবে এবং সু অভ্যাস রপ্ত করবে। এ সবই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক -প্রাথমিকের আয়োজন। প্রাক -প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুকে উপরোক্ত র্কাযাবলীর সাথে সাথে তার অক্ষরজ্ঞান এবং গণনার হাতেখড়ি দেওয়া হয়।
পাশাপাশি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ এবং তার মানসিক ও শারিরীক বিকাশ সাধনের জন্য রয়েছে খেলাধুলা, ছড়া, ব্যায়াম, গল্পবলা, নাচ-গান, ছবি আঁকা প্রভৃতি। এসব আয়োজন তার শিক্ষার ক্ষেত্রে তাকে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এ কার্যক্রমে শিশুদের খেলার ছলে শেখার বিষয়টিকে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রাক – প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে অভিভাবকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ যাতে শিশুর সবধরনের বিকাশে অভিভাবক ও যতœবান হয়। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক। প্রত্যেক শিশুর জন্য রয়েছে আমার বই এবং এসো লিখতে শিখি। সরকার প্রতি বছর প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ রাখেন যাতে শিশুরা মনের মতো করে একটি সুন্দর পরিবেশে শিখতে পারে। শিশুর বয়স চার বয়স পূর্ণ হলে প্রাক- প্রাথমিকে ভর্তি করাতে হবে। এ শ্রেণিতে দুই বছর অধ্যয়ন শেষে ছয় বছর পূর্ণ হলে তারা প্রথম শ্রেণিতে উর্ত্তীণ হবে। এই দুই বছর প্রাক প্রাথমিক -১ এবং প্রাক প্রাথমিক -২ নামে পরিচিত। শিশুরা সবসময় সুন্দরের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। নানা পরিবারের নানা শিশু একসাথে মিশে সংস্কৃতির বিনিময় হয় এবং তাদের সামাজিকতা এবং গণতান্ত্রিকতার বিকাশ ঘটে। তাই আসুন শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তি করে তাকে একটি নির্মল আনন্দময় জীবনের স্বপ্নের বীজ বুনতে সুযোগ করে দিই।
লেখক
শর্মিলা ধর ডিজু
প্রধান শিক্ষক
ফতেয়াবাদ বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
