চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে একাত্তরের জননীখ্যাত, মহিয়সী নারী, আলোকিত মানুষ, লেখিকা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ আলোচনা গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনের সভাপতি বাবুল কান্তি দাশের সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচক ছিলেন রাজনীতিবিড় ভানুরঞ্জণ চক্রবর্তী। আলোচক ছিলেন ব্যাংকার চন্দর কুমার চৌধুরী, রাজনীতিবিদ মিঠুল দাশগুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা কিরণ লাল আচার্য, কবি আশীষ সেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবালের পরিচাণনায় এতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাজনীতিক স্বপন সেন, কবি সজল দাশ, শিক্ষক বিজয় শংকর চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী,নিলয় দে, জাফর আলম, মোঃ তিতাস প্রমুখ। সভার শুরুতে লেখিকা রমা চৌধুরী ও সদ্য প্রয়াত আলাউদ্দীন খোকন স্মরণে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন-মহীয়সী নারী রমা চৌধুরী। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সকল মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়ে ছিলেন তাদের একজন চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিজের জীবনযুদ্ধের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের বলি হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তার তিন ছেলেকে। জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রায় ৩০ বছর ধরে খালি পায়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে নিজের লেখা বই বিক্রি করেছেন তিনি। তিনি পায়ে সেন্ডেল পরতেন না, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে, এই মাটিতে শুয়ে আছে হাজার মুক্তিসেনা এবং উনার তিন সন্তান। তাদের আত্মা কষ্ট পাবে! উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা দেখার জন্য লড়েছেন আমৃত্যু। জীবনের সবকিছু হারিয়ে যখন তিনি নিঃসঙ্গ তখন তাঁর জীবনে আসে আলাউদ্দিন খোকন। যিনি রমা চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে রমা চৌধুরীর মৃত্যু পর্যন্ত সাথে ছিলেন। সেই আলাউদ্দিন খোকন তাঁরই পরমাত্মীয় রমা চৌধুরীর মৃত্যু দিবসে তিনিও চলে গেলেন প্রিয় দিদির কাছে।
