*একটা রাত*
✍️মনি রায় ঘোষ
#অহনার আজ পাঁচ বছরের জন্মদিন।তৃষা খুব ধুমধাম করেই পালন করল অহনার জন্মদিন।।অফিসের অনেকেই আজ নিমন্ত্রিত ছিল।অহনার স্কুলের বন্ধুরাও ছিল।
ছিল না শুধু অহনার বাবা।কে অহনার বাবা সেটাইতো কেউ জানেনা।সকলেই এই ব্যাপারে কৌতুহলী।কিন্তু তৃষা কখনোই কারো কৌতুহল মেটানোর তাগিদ দেখায়নি।কেউ জিজ্ঞেস করলে স্পষ্ট বলে দেয়,আমিই অহনার মা আমিই ওর বাবা।অবশ্য তৃষার ব্যক্তিত্বের কাছে কেউ সেভাবে ঘেষতেই পারেনা।অহনার এই ছোট্ট জীবনে বাবার কোন অভাব বা অভিযোগ তৃষা রাখেনি।তাই অহনা বাবার ব্যাপারে মাকে কোন প্রশ্নই করেনা।
বাকিদের নিয়ে তৃষার কোনদিন কোন মাথাব্যথা ছিলও না আজও নেই।
মেয়েরা কি একা একটা সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারেনা??নাকি মেয়ে বলে সে দুর্বল।
তৃষা একটা বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত।বরাবরই তৃষা ভীষণ স্বাধীনচেতা মানসিকতা বহন করে এসেছে।অন্যদের থেকে বরাবরই একটু আলাদা ধরনের।শারীরিক ভাবে নারী হলেও হাবভাব বরাবরই দামাল ছেলের মতোই।স্কুলে কলেজে কেউই ওকে মেয়ে হিসেবে দেখতনা।কারণ ও মেয়েলি স্বভাবটাকে নিজের থেকে দুরেই রাখত।
ওদের একটা গ্যাং ছিল স্কুলে।সেই গ্যাংটা একসাথে কলেজেও ভর্তি হয়।সেই গ্যাংটায় শুধু একজনই ছিল নারী সুলভ স্বভাবের তার নাম রিয়া।আরেকজন শারীরিক বৈশিষ্ট্যে নারী হলেও তাকে কেউ নারী হিসেবে মানত না।সে হল তৃষা।বাকি সবকটাই ছেলে।কারণ তৃষার কোন মেয়ে বন্ধু ছিলনা।একমাত্র রিয়া ছাড়া।মেয়েদের হাবভাব,প্রেম ভালোবাসার গল্প, মেয়েদের মত সাজগোজ কোনোটাই ওকে আকৃষ্ট করত না কোনদিন।আর রিয়াও কখনো এসব নিয়ে আলোচনা করত না। বরং ছেলেদের মতো সাজতেই তৃষা বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করত।ছেলেদের মতো চুল কাটা,জামা কাপড় পড়া এমনকি হাঁটা চলা সবকিছুই ছিল ছেলেদের মতোই।ওকে নিয়ে আড়ালে অনেকেই হাসতো,ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করত।কিন্তু কোনো কালেই তৃষা সেসবে কর্ণপাত করত না।
তাই অহনাকেও একাই মানুষ করার প্রতিজ্ঞা ও নিজের কাছেই করেছে।একমাত্র তৃষা ছাড়া কেউই জানেনা অহনার বাবার পরিচয়।তৃষার মত একটা মেয়ে কোনদিন মা হবে সেটাই সবার কল্পনার অতীত ছিলো।যে মেয়ে নিজেকেই কখনো মেয়ে ভাবেনি সে কিকরে কারো মা হয়ে উঠতে পারে।তৃষার জীবনে কি এমন ঘটেছে যা তৃষাকে আপাদমস্তক বদলে দিয়েছে।কি এমন ঘটনা যা তৃষার মধ্যে লুকিয়ে থাকা নারীকে জাগিয়ে তুলেছে।
পুরোনো দিন নিয়ে তৃষা ভাবেনা কখনো।তবুও একটা চাপা কষ্ট ওকে কুড়ে কুড়ে খায়।কেন যে সেই রাতে ……
নাহ্ ও ভাবতে চায়না সেসব কথা।নতুন করে আর কিছুই মনে করতে চায়না ও।কিন্তু অহনা যদি কোনদিন ওর বাবার কথা জিজ্ঞেস করে তবে কি উত্তর দেবে সেদিন??
আজ না হয় অহনা ছোট তাই হয়ত ওর মনে কোন প্রশ্নের উদয় হয়নি।কিন্তু কাল বড়ো হলে অন্যদের বাবা দের দেখলে মনে প্রশ্ন তো জাগতেই পারে।
তৃষা কি পারবে সারাজীবন ওর মা আর বাবা দুটো চরিত্র সমান ভাবে বজায় রাখতে।
খুব রাগ হয় নিজের ওপরে।কেন সেদিন অতো ড্রিঙ্ক করল আর কেনই বা অয়নের বাড়িতে থাকতে গেলো।
অয়ন,শুভ,রক্তিম,প্রীতম,সোহম,রিয়া আর তৃষা। এই সাতজন ছিল হরিহর আত্মা।সেই স্কুল থেকে এদের কেউ আলাদা করতে পারেনি কখনও।কেউ আলাদা করতে চায়ওনি।মাস্টার মশাইরাও ভীষণ ভালোবাসতো ওদের।কারন ওরা সবাই খুব মেধাবী ছিলো।শুধু তাই নয় বড্ড পরোপকারী ছিল সবাই।কারো বিপদের কথা শুনলেই ঝাঁপিয়ে পড়ত কোনকিছু না ভেবেই।এমনকি কলেজেও ওরা খুব তাড়াতাড়ি সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিল।কারো কোন সমস্যা হলেই সবার আগে ওদের কাছেই আসতো।
কারো জন্মদিন এলে ওরা তার বাড়িতে গিয়ে হানা দিতো।তার ঘাড় ভেঙে খেতেই হত নয়ত ওদের রাতে ঘুম হতোনা।এভাবেই হই হুল্লোড় করেই কেটে যাচ্ছিল জীবন।হয়ত এমনি করেই কেটে যেত যদি সেই রাতে তৃষা মাত্রাতিরিক্ত ড্রিঙ্ক না করত। সকলেই ড্রিঙ্ক করেছিল কম বেশি।অয়নের জন্মদিনে আগে থেকেই প্লান ছিল অয়নদের পুরোনো ফ্লাট টাতে জমিয়ে পার্টি হবে।ওই ফ্লাট টাতে মাঝেমধ্যেই জমিয়ে পার্টি করে ওরা।সিগারেট মদ এসব টুকটাক চলে।আজকালকার ছেলে মেয়ে এসব তো একটু আধটু চলারই কথা।কিন্তু সেদিন তৃষার বড্ড কষ্ট হচ্ছিল ওর ছোটবেলার কথা ভেবে।সারাটাজীবন বাবা মা এর মধ্যেতুমুল অশান্তি দেখে বড় হয়েছে তৃষা।সারাজীবন কেউ ওর কথা ভাবেনি।ওর বাবার অন্য একজনের সাথে অ্যাফেয়ার ছিল।তাই কোনদিন তৃষা বা ওর মা এর প্রতি তৃষার বাবার সেরকম কোন ফিলিংস ছিলনা।সেই নিয়েই চলত দাম্পত্য কলহ।তারপর ডিভোর্স হয়ে যায় বাবা মা এর।বাবা পরিস্কার জানিয়ে দেয় তৃষার দায়িত্ব তিনি নেবেননা।মা ও জানিয়ে দিল সে আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে চায় তাই সেও পারবে না তৃষার দায়িত্ব নিতে।অগত্যা বারো বছরের তৃষাকে রেখে আসা হয় তৃষার দিদুনের কাছে।মাসে সব খরচ পাঠিয়ে দিত নিয়ম করে।কিন্তু নিয়ম করে তৃষার প্রাপ্যের ভালোবাসা পাঠাতো না কেউ।বাবা মা কে খুব মিস করত তৃষা।ততদিনে মা ও অন্যত্র সংসার পেতেছিল।দুজনেই গুছিয়ে নিয়েছিল দুজনের জীবন।শুধু তৃষা বড় হতে লাগল বাবা মা এর ভালোবাসা ছাড়াই।মা আসত মাঝে মধ্যে দিদুনের বাড়ি,তৃষার জন্য দামি দামি উপহার নিয়ে কিন্তু তৃষা কখনো মা এর সাথে দেখা করত না।তৃষা বুঝতে পারত মা শুধু কর্তব্য করতেই আসে।একটু একটু করে ও গুটিয়ে নিল নিজেকে।ভালোবাসা, প্রেম, বিয়ে এসবের উপর থেকে ওর সমস্ত বিশ্বাস উঠে গেলো।যাতে কোনদিন কোন ছেলে জীবনে আসতে না পারে তার জন্য নিজেকে ছেলে সাজিয়ে রাখত।মেয়েলি সমস্ত স্বভাব থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রেখেছে।কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না।
মাত্রাতিরিক্ত ড্রিঙ্কস করে তৃষার যখন বেহাল অবস্থা তখন ওকে সামলাতে গিয়েই অঘটনটা ঘটিয় ফেলেছিল অয়ন।যতই হোক্ পুরুষ মানুষতো।আর তৃষার পুরুষের চালচলন হলেও আদতে তো একজন নারী।একলা ঘরে সেদিন অয়নকে বাঁধা দিতে পারেনি তৃষা।বাঁধা দেয়ার চেষ্টাও করেনি।ভেসে গিয়েছিল অজানা সুখের জোয়ারে।
এই সুখের স্বাদ এর আগে কখনো অনুভব করেনি তৃষা।যাকে বন্ধু ছাড়া কখনো কিছু ভাবেনি তার ছোঁয়ায় ওর নারী শরীর জেগে উঠেছিল।নাহ্ অয়ন ওকে জোর করেনি।ওরা নিজেরাও জানেনা কিভাবে সেদিন ওরা নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলেছিল একে অপরের মধ্যে।অয়নও নেশাগ্রস্ত ছিল তাই কোনকিছুই হয়ত নিজেদের বশে ছিল না।
পরের দিন সকালে নিজেদেরকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় আবিষ্কার করেছিল দুজন।লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিয়েছিল দুজনেই।সেদিনের পর তৃষা অয়নের কাছে খুব একটা আসত না।গভীর বন্ধুত্বে ভাটা পড়েছিল বোধহয়।আগের মত আড্ডা হইচই কোন কিছুতেই তৃষা সহজ হতে পারত না।অনেকেই কারণ জিজ্ঞেস করেছিল কিন্তু তৃষা কাউকে কিচ্ছু বলেনি।এমনকি রিয়াকেও না।অয়ন ও সেদিনের পর থেকে বেমালুম পাল্টে গিয়েছিল।তৃষার সাথে কথা বলা একদমই বন্ধ করে দিয়েছিল।
তৃষা যেদিন বুঝতে পারল যে তার শরীরের মধ্যে বেড়ে উঠছে আরেকটা প্রান তখন অয়নদের বাড়িতে গিয়েছিল অয়নকে জানাতে।কিন্তু অয়ন পরিস্কার জানিয়ে দিল এই বাচ্চার কোন দায় ও নিতে পারবেনা।এমনকি এটাও বলল যে তৃষা বাচ্চা টাকে যেন নষ্ট করে দেয়।সেদিন রাতের পুরোটাই একটা দুর্ঘটনা ছিল।সবটা যেন ভুলে যায় তৃষা।
সেদিনের পর থেকে শুরু হয়েছিল এক নতুন লড়াই।ও চেয়েও ছোট্ট প্রানটা নষ্ট করতে পারেনি।
তাই অন্যত্র পাড়ি দিয়েছিল চেনা শহর ছেড়ে।সম্পূর্ণ এক অচেনা শহর,অচেনা পরিবেশে।
মেয়ে থেকে মা হয়ে উঠল তৃষা।একটা ভালো চাকরি জোগাড় করে নিতে পেরেছিল বলেই ওকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি।
ন মাস পর তৃষা জন্ম দিল একটা ফুটফুটে শিশু কন্যার।
সব ঠিকঠাকই চলছিল।কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই একটা শপিং মলে দেখা হল অয়ন আর রক্তিমের সাথে।ওরাও চাকরি নিয়ে এই শহরেই এসেছে।ছ বছর পর তৃষাকে দেখে রক্তিমতো কেঁদেই ফেলল।এত বছরের বন্ধুত্ব বলে কথা।তৃষাকে জড়িয়ে ধরল মলের মধ্যেই।অয়ন ও এসে জিজ্ঞেস করল তৃষাকে,কেমন আছিস??
খুব ভালো আছি,ভালো থাকতে শিখে গেছি।তৃষার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট অহনা।
অহনাকে দেখে রক্তিম জানতে চাইল অহনার পরিচয়।
তৃষা আসলে কাউকেই সত্যিটা জানায়নি কোনদিন। হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল সবাইকে ছেড়ে।তাই অহনার ব্যাপারে কেউ কিছুই জানত না।
অহনা তৃষার মেয়ে এটা জানার পর রক্তিমের চোখ কপালে উঠে গেল।তৃষার মত একটা মেয়ে সে আবার মা হয়েছে?
অয়ন কোলে নিল অহনাকে।খুব আদর করল।
তুমি কাঁদছ কেন আঙ্কেল??
অহনা ছোট ছোট হাত দিয়ে অয়নের চোখের জল মুছিয়ে দিল।
শক্ত করে অয়ন জড়িয়ে ধরল অহনাকে।রক্তিম কিছুই বুঝতে পারছিল না এসবের।
তৃষা কিছু বলার আগেই অয়নই সবটা বলল রক্তিমকে।তৃষা শহর ছেড়ে চলে আসার পর তৃষাকে পাগলের মতো খুঁজেছে অয়ন।অপরাধ বোধে ভুগেছে।কাউকে কিছু বলতে পারেনি।বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিলেও বিয়ে করবেনা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিল বাড়িতে।আজ এভাবে তৃষার সাথে দেখা হবে অয়ন ভাবতেই পারেনি।
তৃষা অয়নের কোল থেকে অহনাকে নামিয়ে নিয়ে কোন কিছু না বলেই চলে গেল মল ছেড়ে।
রক্তিমের কাছে এখন সবটাই স্পষ্ট।অয়নের সেই জন্মদিনের রাত থেকেই সবটা ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল।আবার নতুন করে সবটা ঠিক করতে হবে।কর্মসূত্রে সব বন্ধুরাই আলাদা হয়ে গেছে।রিয়ারও বিয়ে হয়ে গেছে।
আর পাচঁদিন পর অয়নের জন্মদিন।সেদিনই যা করার করতে হবে মনে মনে ভেবে নিল রক্তিম।
একই শহরে আছে ওরা কিন্তু কেউ কারো ঠিকানা জানে না।
অহনাকে দেখার পর থেকে অয়ন পাগলের মত অহনাকে খুঁজছে।পিতৃত্ব কি জিনিস সেটা আজ বুঝতে পারছে অয়ন।।অহনার সেই নিষ্পাপ ছোঁয়ায় ও নিজেকে আরো অপরাধী ভাবতে শুরু করেছে।
ছটা বছর তৃষা একা লড়াই করেছে কারো কোন সাহায্য ছাড়াই।তাই আজ ও আর কাউকেই জীবনে জায়গা দিতে চায়না।যখন অয়নকে ওর প্রয়োজন ছিল তখন অয়ন ওকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে।আজ পিতৃত্বের দাবি নিয়ে এলেই ওকে মেনে নিতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।
অহনার জীবনে তৃষাই সবকিছু।কিন্তু অহনা যদি ওর বাবাকে কাছে পেতে চায় তাহলে??
অনেক চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত তৃষার ঠিকানা জোগার করেছে রক্তিম।সোহম,প্রীতম,রিয়া আর শুভকেও ডেকে নিল রক্তিম।তৃষার খোঁজ পাওয়া গেছে বলতেই সবাই হাজার একটা প্রশ্ন করতে শুরু করল রক্তিমকে।রক্তিম কোন উত্তর না দিয়ে শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় চলে আসতে বলল।
অয়নের জন্মদিন এলেই তৃষা চুপচাপ হয়ে যায়। মনে পড়ে যায় পুরোনো সমস্ত কিছু।মনে পড়ে যায় সেই রাতটার কথা।সকাল থেকেই তৃষা মনমরা হয়ে ছিল।অহনা মাকে জড়িয়ে ধরে গালে হামি খেলো অনেকগুলো।মা এর মন ভালো করার এটাই একমাত্র রাস্তা অহনা জানে সেটা।
সন্ধ্যার মুখে কলিং বেলটা বাজল।দরজা খুলতেই চমকে উঠল তৃষা।চোখের সামনে যাদের দেখছে তাদের কে ও এক মূহুর্তের জন্যও কোনদিন ভুলতে পারেনি।তৃষার জীবনের অনেকটা জুড়েই এই মানুষ গুলোর স্থান। তৃষাকে দেখে বাকিদের ও একই অবস্থা।সবার চোখে জল।সকলকে ভেতরে নিয়ে এল তৃষা।সাজানো গোছানো ফ্লাট।শুধু তাই নয় তৃষার সাজ পোষাকেও আমুল পরিবর্তন।কপালে টিপ,পরনে নীল শাড়ি।ছ বছর আগের সেই তৃষার সাথে এই তৃষার আকাশ পাতাল পার্থক্য।তবুও চিনতে একটুও কষ্ট হয়নি কারো।
প্রত্যেক বছর অয়নের জন্মদিনে তৃষা কেক বানায় নিজের হাতে।অয়নের পছন্দের নীল রঙের শাড়ি পরে।মেয়েকে দিয়ে কেক কাটায়।আজও তাই করেছে,কিন্তু আজ আর ও একা নয়।
–এত ভালোবাসিস অয়নকে??তবুও ওকে ফিরিয়ে দিলি??বলল রক্তিম।
–আমার সন্তানের বাবা ও।তাই সেই খাতিরেই….
তৃষাকে ধমকে চুপ করিয়ে দিল সবাই।
তৃষা সবার মাঝে কাউকে যেন খুঁজছে কারন অয়ন আসেনি।
–তুই যাকে খুঁজছিস সে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।
তুই না ডাকলে ভেতরে আসবে না।
–ওকে ভেতরে আসতে বল রক্তিম।অতিথি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে আমাদের অমঙ্গল হবে।
রক্তিম বেরিয়ে গেল অয়নকে ডাকতে।
রিয়া এসে তৃষার হাত ধরে জিজ্ঞেস করল,
–আমাকেও কিচ্ছু বললি না?এই তুই আমাদের বন্ধু ভাবিস?সব কষ্ট একা সহ্য করলি?
অয়নের অপরাধের শাস্তি আমাদের সবাইকে দিলি?
–অয়নের তো কোন অপরাধ নেই।সেদিন যা হয়েছিল তাতে পুরোটা দোষ ওর ছিল না।তাই ও আমাদের দায়িত্ব নিতে যাবেই বা কেন।আমি ওর ওপরে রাগ করিনি রে।তাছাড়া অহনাকে আমি নিজের দায়িত্বে জন্ম দিয়েছি।কারো ভরসাতে নয়।
মাতা নত করে অয়ন এসে দাঁড়ালো তৃষার সামনে।
ক্ষমা চাওয়ার সাহস টুকুও পাচ্ছেনা।
–নে দাড়িঁয়ে না থেকে কেক টা কেটে আমায় উদ্ধার কর।তোর ওপরে আমার কোন রাগ নেই আর।হ্যা প্রথম প্রথম রাগ হতো।মনে হতো তুই আমার সাথে বেইমানি করেছিস।কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম তোর সত্যি কোন দোষ নেই।
এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল অয়ন।অহনা এতক্ষণ সবটাই পর্যবেক্ষণ করছিল।ছোট্ট মাথায় কিছুই ঢুকছিল না।
অয়ন কে কাঁদতে দেখে ছুটে অয়নের কাছে এসে বলল,
–তুমি আবার কাঁদছ আঙ্কেল?তোমাকে কি কেউ বকেছে??
–না সোনা কেউ বকেনি।তোমার মা খুব ভালো তাই আমায় একটুও বকল না।কিন্তু আমিতো অনেক দুষ্টুমি করেছি।তুমি একটু বকে দেবে আমায়??
অয়নের গালে হামি খেলো অহনা।বাবা মেয়ের এমন দৃশ্য দেখে সবার চোখেই তখন বৃষ্টি নেমেছে।
–উনি তোমার আঙ্কেল না অহনা।উনি তোমার পাপা।
কথাটা বলেই সজল চোখে অয়নের দিকে তাকালো তৃষা।
হুমমম এবার আমাদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে এনাদের চার হাত এক করে দিতে হবে কি বলিস সবাই।
তৃষা আর অয়ন দুজনেই অহনাকে জড়িয়ে ধরল।
হয়ত যা হয় ভালোর জন্যই হয়।
এই লম্বা সময় টা হয়ত দুজনেরই প্রয়োজন ছিল।
সময়ের আগে বোধহয় কোনকিছুই হওয়া সম্ভব নয়।হয়ত এটাই ওদের নিয়তি।
সমাপ্ত।
