মাধ্যমিক স্তরের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ৮৫ দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। শ্রেণি পাঠ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিকে ৭৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নোট-গাইড বই অনুসরণ করেছে। নোট-গাইড কিনতে প্রাথমিকের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর গড়ে ৬৬৯ টাকা এবং মাধ্যমিকে ২ হাজার ৬৫ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এডুকেশন ওয়াচ-২০২২’ সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গণসাক্ষরতা অভিযানের করোনা পরবর্তী ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ে নির্ভরতার চিত্র শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রায় একইরকম। ষ্টম শ্রেণির প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং নবম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটরিংয়ের জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন অভিভাবকরা।
এই বছর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার একটি ইতিবাচক চিত্র লক্ষ্য করা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এ বিষয়ে স্কুলের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে অভিভাবকরা সন্তুষ্ট ছিলেন। সমীক্ষায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনে সহায়তা করতে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট কোচিং এবং বাণিজ্যিক গাইডবইয়ের ওপর অধিক নির্ভরতা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, এডুকেশন ওয়াচের চেয়ারপারসন ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, এডুকেশন ওয়াচের উপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
