সর্বশেষ

দখল দুর্নীতির অভিযোগ আওয়ামী লীগের  ১২০ এমপির তালিকা দুদকে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজখবর নিতে ১২০ এমপির তালিকা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে তিনটি জরিপের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। ওই জরিপে ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফলে ১২০ এমপির বিরুদ্ধে উঠে আসা রিপোর্ট সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার জন্য তাদের তালিকা দুদকে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র বলছে, ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, অর্থনৈতিক অনিয়ম, জমি দখল, সরকারি সম্পত্তি দখল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ জরিপে উঠে এসেছে। সংগত কারণে তাদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিতে দুদকে এসব এমপির নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগ মনে করে, টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকায় দলের অনেক এমপিই দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভুলে গেছেন। সম্প্রতি এমপি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরাও কেউ কেউ টাকার মালিক বনে গেছেন। তারা কেন এত টাকার মালিক হলেন, তাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা দলকে পাত্তা না দিয়ে নিজেকে হিরো হিসেবে নিয়েছেন। তারা মানছেন না দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনাও। ইতিমধ্যে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে জরিপ করেছেন শেখ হাসিনা। এসব জরিপে এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের এলাকায় অবস্থান, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, দলের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন না করা, এমপি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বলয় তৈরি করাসহ নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য সময়ের আলোকে বলেন, ১২০ এমপির একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও মালিকানাধীন জমি দখল, কেউ কেউ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার মালিকসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের মধ্যে শুধু এমপিই নন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা আছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য  বলেন, ১২০ এমপির একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও মালিকানাধীন জমি দখল, কেউ কেউ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার মালিকসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের মধ্যে শুধু এমপিই নন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা আছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম  বলেন, জমি দখল, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এমন ১২০ এমপির বিরুদ্ধে দুদকে তালিকা পাঠানো হয়েছে কি না এমন খবর আমার জানা নেই। আর যদি পাঠানো হয়েও থাকে, সেখানে আমার নাম নেই, এটা আমি বলতে পারি।
জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর গণভবনে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১৪ দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনেকের আমলনামা আমার কাছে এসেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করছি। এদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে নানা নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও রয়েছেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দফতর, উপ-দফতর, প্রচার, উপ-প্রচার সম্পাদকদের সঙ্গে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নেতাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সামনে রেখে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে সংগঠন শক্তিশালী করারও তাগিদ দেন। এ বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে শতাধিক এমপি বাদ পড়বে। তাই তাদেরকে যার যার নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ২ সেপ্টেম্বর গণভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের অন্যতম এক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, বৈঠকের এক ফাঁকে জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু ১৪ দলেরই নয়, আওয়ামী লীগেরও অনেক পোড় খাওয়া ও ত্যাগি নেতারা কিছুই পাননি, তাদের বিষয়ে চিন্তা করছি। বর্তমানে প্রায় ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও রয়েছেন। তাদের লিস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন