সর্বশেষ

হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া বাজার সংলগ্ন হালদা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের দাবী

উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ির তিন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল সাবেক বৃহত্তর গুমানমর্দন এলাকার নাঙ্গলমোড়া বাজার সংলগ্ন (বহরম মাঝির ঘাট) হালদা নদীর পূর্ব – পশ্চিম পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার জনসাধারণের দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসন ও সর্ব সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ৩২ জন বিশিষ্ট আইনবিদ । হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলার সরকারহাট- মোহাম্মদ তকিরহাট- গহিরার গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে বিশিষ্ট অলি আল্লাহ, পীরে কামেল হজরত মঈজুদ্দিন শাহ্ আল ফারুকি (র) এর নামে একটি সংযোগ ব্রিজ নির্মাণের দাবী স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবৎ জানিয়ে আসছে। স্থানীয় এলাকার এসব কৃতি আইনজীবীগণ বিবৃতি আরো বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি প্রতিবছর স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করে বহু কষ্টে জনসাধারণের পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকেন। বর্ষায় খরস্রোতা হালদার জোয়ারে বাঁশের সংযোগ ব্রিজটি ভেঙে যায়, প্রায় সময় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে উভয় তীরের মানুষকে নৌকা পারাপার করতে হয়। সরকারের আধুনিক উন্নয়নের রোল মডেল থেকে বাদ পড়া এলাকাটির হাজার নর নারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী সহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে উভয় তীরের হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বনিতা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নিজ নিজ এলাকা থেকে যাতায়াত করতে হয়। অথচ একটি ব্রিজের অভাবে তিনটি থানা ও উপজেলা এর সম্ভাবনাময় এলাকাটির উন্নয়ন থমকে আছে। অত্যন্ত অবহেলার শিকার এলাকাটি আধুনিক উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত ও অন্ধকার হয়ে আছে ।

স্বাধীনতা যুদ্বকালীন সময়ে এলাকাটি ছিল মুক্তি যোদ্ধাদের প্রাণ, মুক্তি যোদ্ধাদের গ্রাম । মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশাল অবদান রাখা সত্বেও হালদার তীরের একটি বিশাল জনপদ ও সম্ভাবনাময় এলাকাটি একটি ব্রীজের অভাবে অন্ধকার হয়ে আছে। এ ব্রিজ হালদার উভয় তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে সংযোগ ও যোগাযোগে বিশেষ ভূমিকা রেখে আলোকিত করবে, আর খুলে দেবে অপার সম্ভাবনার দ্বার । স্বাধীন বাংলাদেশের অর্ধ শত বছর পেরিয়ে গেছে, আজো হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান বাসীর প্রাণের দাবী নাংগলমোড়া বাজার সংলগ্ন হালদা ব্রীজটি নির্মিত হয়নি। জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচনী ওয়াদা রাখতে পারলেন না। ফলে বর্ষা মৌসুমে উভয়পারের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । হালদা নদীর স্রোতে নৌকা ডুবিতে প্রায় সময় হতাহতের ঘটনা ঘঠে । স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, চাষাবাদ এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার মানুষগুলোর দুর্ভোগ চরমে । সামান্য পথ হয়ে যায় কয়েক মাইল দূরত্বের । অথচ একটা ব্রিজ এখানে হতে পারে তিন থানার মিলন মোহনা । বিবৃতিদাতারাএ ব্যাপারে উভয় পাড়ের এমপি (সাংসদ) ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করেন ।

বিশেষ করে গুমানমর্দনের কৃতি সন্তান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমপি (হাটহাজারী), এ বি এম ফজলুল করিম চৌধুরী,এমপি (রাউজান) ও নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, এমপি (ফটিকছড়ি) মহোদয়গণের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন । গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও অন্যান্য সংকট নিরসনে ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এই ব্যাপারে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে যৌথ প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়। নোয়াজিশপুর,নিচিন্তাপুর, নানুপুর এর সাথে নাংগলমোড়া, ছিবাতলী, গুমানমর্দনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে হালদা সেতু ও সড়ক নির্মিত হলে পুরো এলাকাটির দীর্ঘদিনের জন দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং এলাকাটি দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে। বিবৃতিদাতা বিজ্ঞ এডভোকেটবৃন্দগন হলেন যথাক্রমে, সর্বজনাব এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল আমীন(সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান), এড.এ এফ এম মইনুদ্দিন আহমেদ, মানবাধিকার এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এড.শফিউল মোরশেদ চৌধুরী, এড.মনিরুল আলম, এড. জহিরুল আলম, এড. আব্দুল মান্নান, এড.জান্নাতুন নাঈম রোমানা, শাহীন হাসান চৌধুরী, এড.নাসিমা বেগম, মোহাম্মদ শাহজাহান,এড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম, ব্যারিস্টার সাজিদ মাহমুদ, ব্যারিস্টার সামিরা মাহমুদ, মোঃ তসলিম উদ্দিন, এড.হুমায়ুন কবির এম ফিল, এড. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, এড. সোহাইল আহমদ, এড. ওসমান জাবেদ,এড. মোহাম্মদ শফিউল আজম, অ্যাডভোকেট তুষার কান্তি মু্ৎসুদ্দী, এড.সূচয়ন মুৎসুদ্দী, এড.তসলিমা বেগম আইরিন, মোস্তফা আনোয়ারুল ইসলাম, এড.আবু মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ,এড. মোহাম্মদ মিজান উদ্দিন, ক্লিনটন মুসদ্দি, মেহেদী হাসান রিয়াদ, মোহাম্মদ তাওসিফ আমীন,এড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন (আরমান), মোঃ সাফির হাসান,এড. ইয়াসির আরাফাত প্রমূখ ৩২ জন স্থানীয় আইনবিদ।

আরও পড়ুন