সর্বশেষ

পারমাণবিক ক্লাবে বাংলাদেশ

একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কথা শুরু করেছিলেন ফরাসি ও রাশানদের সঙ্গে। অবশেষে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সফল হলো বাংলাদেশ। ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে এসেছে ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠান (গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে এই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ঐতিহাসিক এই গ্র্যাজুয়েশনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩৩তম ইউরেনিয়াম জ্বালানির যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। আমরা এখন নিউক্লিয়ার ক্লাবের গর্বিত সদস্য।

১৯৬২ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রমত্তা পদ্মা নদী তীরবর্তী রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান হিসাবে নির্বাচন করা হয়। বুধবার সরেজমিন বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে ঘিরে উৎসবের সাজে সেজেছে ঈশ্বরদীর রূপপুর এলাকা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিভিন্ন রঙের পতাকা শোভা পাচ্ছে। গ্রিনসিটি আবাসিকের সামনের প্রাচীরে রঙিন চিত্রকর্ম নজর কাড়ছে সবার। একদিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, অন্যদিকে সাজসাজ রব। সব মিলিয়ে রূপপুর যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ভিন্ন এক জায়গা। তবে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে এখানকার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রূপপুরে এসেছে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছেন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ফলে পুরো প্রকল্প ও গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান কবিতার ভাষায় বলেন, ‘পিতা চেয়েছিল পরমাণু যুগ শুরু হোক রূপপুরে, পিতার চাওয়া হয়েছে পূরণ কন্যার হাত ধরে। রূপপুর আজ রূপ পেয়েছে অর্জন অশেষ; এই না হলে শেখের বেটি শাবাশ, শাবাশ বাংলাদেশ।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেডিয়েশন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। রেডিয়েশনের মাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার মধ্যে থাকবে। ২৩টি রেডিয়েশন স্টেশন চালু হবে, সেখানে রেডিয়েশনের মাত্রা প্রদর্শিত হবে। যে কেউ দেখতে পারবেন। এসব স্টেশন ১৮ কিমি. দূরে পর্যন্ত থাকবে। ১২.৫ কিলোমিটার দূরে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন নেই। যেভাবে বসবাস করছে, সেভাবে করতে পারবে।

 

আরও পড়ুন