জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, সরকার সাইবার আইন করে জনগণকে মুক্তচিন্তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। শুধু তাই নয়, দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে ও গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। এই সরকার জনগণের জবাবদিহিমূলক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। যেকোনো ধরনের সমালোচনা করলে রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলে সাইবার আইনে মামলা করা হচ্ছে। সমালোচনা নিতে না পেরে আইন দিয়ে মুখ বন্ধ করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যশনাল কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, সরকারের লুটপাটের কারণে দেশ রিজার্ভ সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের রিজার্ভ খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। রিজার্ভ দশ বিলিয়ন কম হলে কোনো দেশের এলসি হবে না। দেশের ব্যাংকগুলো খালি করা হয়েছে। দুদক দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। ছোট কর্মকর্তাদের দুদক দিয়ে হয়রানি করা হয়। কিন্তু বড় বড় দুর্নীতিবাজদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দেশে প্রথম আওয়ামী লীগ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। পরে বিএনপি চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারের ধারে কাছে যায়নি। সবক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ একটি সুবিধাবাদি দল তৈরি করেছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিতে জাতীয় পার্টি নৈতিকভাবে সমর্থন রয়েছে। পল্লীবন্ধু হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ যখন অসুস্থ ছিলেন চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যেতে মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছিল। তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদনও করেছিলাম, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জেলে মারা গেলে মারা যাক। সেই বেগম জিয়া আজকে সেটাই ভোগ করছেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একই চরিত্র উল্লেখ করে জাপা মহাসচিব বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ টাকা চুরি করেছে। দেশের জনগণের কথা ভাবে না। ফ্লাইওভার করে কোটি টাকা খরচ করে। কিন্তু লালো মানুষ বেকার। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি সেইগুলা চিন্তা করে না। বেকার, শিক্ষিত চাকরি পায়না, সেটার কোনো চিন্তা নেই। কর্মমুখী শিক্ষার কোনো রোডম্যাপ নেই। ৯০ সালে ফতোয়া দিয়েছিল, জাতীয় পার্টিকে কোনো দলে নেওয়া হবে না। কিন্তু এখন বিএনপি বলে কি কি লাগবে? আওয়ামী লীগ বলে আমাদের রেখে চলে যাবেন। পরবর্তী সময়ে আপনাদের মূল্যায়ন করা হবে। জাতীয় পার্টি থেকে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা করব। জাতীয় পার্টি নতুন রূপে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জহুরুল ইসলাম জহির, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী ও এটিকিউ তাজ রহমান।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠকে পুনরায় মহানগরের সভাপতি, ইয়াকুব হোসেনকে সিনিয়র সহ সভাপতি এবং আবু জাফর মাহমুদ কামালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
