চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেন, আগামী ২৮ অক্টোবর দেশ ও জাতির জন্য একটি অহংকার ও গর্ব করার মত একটি মর্যাদার দিন। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফূলীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ব বৃহৎ ও একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্যানেল উদ্বোধন করে জাতি-ধর্ম-দল-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির ললাটে আরেকটি বড় বিজয় তিলক উড়িয়ে দেবেন।
বাঙালির এই স্বর্ণালী স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগ বিএনপি-জামাত দুষ্টগ্রহ এবং স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা ঐদিন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিতভাবে নাশকতা-অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ঢাকাকে অচল করে কুমতলব হাসিলের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে কথিত মহাসমাবেশ ডেকেছে। এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়, দেশী-বিদেশী বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির নির্বাচন বানচাল এবং বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ধ্বংসাত্মক মহড়া। তিনি আজ বুধবার সকালে কাজিরস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আগামী ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল উদ্ভোধন উপলক্ষে শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম আগমণ এবং বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের দক্ষিণ প্রান্তে অনুষ্ঠিতব্য তাঁর বিশাল জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বর্ধিত সভায় সূচনা ও নির্দেশনামূলক বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ বা সরকারের জন্য নয়, এটার উপকার ভোগী হবে দলমত নির্বিশেষে আপামর জনতা। তাই এই ট্যানেল সমগ্র জাতি ও জনগণের সম্পদ।
এই ট্যানেল উদ্বোধনের দিন বিএনপি- জামাতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি প্রমাণ করে যে, তারা দেশ ও জনগণ বিরোধী একটি অপশক্তি। তিনি ঘোষণা করেন, স্বাধীনতা ও দেশ বিরোধী শক্তির রক্ত চক্ষুকে শর্ববৃদ্ধ করে ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু ট্যানেলের দক্ষিণ প্রান্তে অনুষ্ঠিতব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে এবং জনসমুদ্রে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ১ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটানো হবে। এই লক্ষ্যে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের রোডম্যাপসহ সমাবেশ স্থলে নির্দিষ্ট সময়ে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি আরো জানান, আগামীকাল ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন থানা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বয়াকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণের জন্য উপস্থিত থাকতে বিশেষভাবে আহ্বান করেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তৃণমূল স্তরের বর্ধিত সভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নে সকল দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিয়ে ২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন কর্ণফূলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ট্যানেল নির্মাণ তার মধ্যে অন্যতম। আজ শুধু চট্টগ্রামবাসী নয় সমগ্র বাংলাদেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে এই ট্যানেল স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে জানেন ও করেছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের মানুষের আকাঙ্খা পূরণে উত্থাপিত ২৮দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসব বাস্তবায়নে অঙ্গীকার প্রদান করেছিলেন। আজ একে একে তার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হতে চলেছে। এটা সমগ্র জাতির জন্য একটি সৌভাগ্যের বিষয়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মহিউদ্দিন বাচ্চু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, সাবেক ছাত্রনেতা গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, উপদেষ্টা একেএম বেলায়েত হোসেন, আলহাজ্ব সফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মোঃ হোসেন, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, জোবাইরা নার্গিস খান, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, উপ সম্পাদক শহীদুল আলম, জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, গাজী শফিউল আজিম, নুরুল আবছার মিয়া, আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, হাজী দোস্ত মোহাম্মদ, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মহব্বত আলী খান, সৈয়দ আমিনুল হক, বখতেয়ার উদ্দীন খান, কামরুল হাসান বুলু, জাফর আলম চৌধুরী, আবদুল লতিফ টিপু, ডা. নেছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ।
সভায় সাবেক যোগাযোগ ও সেতু প্রতিমন্ত্রী আবুল হোসেন এমপির মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।
