নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দেখাতে মরিয়া। আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা সবাই রাজপথে নেমে আসার পরিকল্পনা করছে। সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে দলটি। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।
নেতা কর্মীরাও মনে করেন আর আত্মগোপনে না থেকে রাস্তায় নেমে যাযা করা প্রয়োজন করতে হবে।না করে মামার আসামি হচ্ছি আর লুকিয়ে থেকে লাবকি।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাধায়ক সরকারের দাবিতে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফা, ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা এবং ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফার পর বিএনপি আজ রোব ও আগামীকাল সোমবার চতুর্থ দফা অবরোধের ডাক দিয়েছে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর হরতালও করেছে দলটি।
আজ থেকে শুরু হওয়া অবরোধে বিএনপি চাইছে মাঠে আরও জোরালো হতে। তারা অবরোধের বাইরে আর কোনো বিকল্প দেখছে না। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে মাঠ পর্যায়ের সব নেতাকর্মীকে হাইকমান্ড কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। দায়িত্ব ভাগ করে কর্মসূচি সফল করতে এক গুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন। তফসিলের পর থেকে নেতাকর্মীরা সবাই মাঠে থাকবেন। আত্মগোপন থেকে একে একে বেরিয়ে আসবেন। চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি দলগুলোকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে। তফসিল ঘোষণার দিন ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিতে পারে। এরপর অবরোধে শামিল হওয়ার চিন্তা করছে। তাদের আল্টিমেটাম শুক্রবার শেষ হয়েছে। আজ সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি।
মাঠ পর্যায়ের নেতা যুবদল উত্তরের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, নেতাকর্মীরা সবাই মাঠে নেমে আসছে ধীরে ধীরে। ঘরেও নিস্তার দিচ্ছে না পুলিশ। আমরা বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করছি। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একযোগে মাঠ পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকে যুক্ত করে আন্দোলন ও নেতৃত্বের বার্তা দিচ্ছেন। তফসিলের দিন আরও জোরালো আন্দোলন হবে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। যেখানেই রাতে থাকছি, সেখানেই হানা দিচ্ছে পুলিশ। তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা হবে। হাইকমান্ড থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা আছে। আক্রমণ হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এবার পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।
বিএনপির ডাকা চতুর্থ দফা অবরোধে সড়ক, মহাসড়কসহ প্রতিটি জায়গায় মানুষ উপস্থিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভুয়া নির্বাচনের নামে তামাশা করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমেই বাড়বে। অবরোধ-হরতাল, ঘেরাও কিংবা অবস্থান এগুলোর মধ্যেই থাকবে কর্মসূচি। সরকার হয়তো মনে করছে তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করলেই সবকিছুতে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু তফসিলই শেষ কথা নয়। আমরা মাঠ ও মাঠের বাইরে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব সরকারের তৎপরতা রুখে দিতে।
