সর্বশেষ

নারী কনস্টেবলের কাছ থেকে ছিনতাই করে ধরা ৪

পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল নার্গিস আক্তারের কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন, স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও একটি বাটন ফোন ছিনতাই করার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পল্টন থানার পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নারী কনস্টেবলের খুয়া যাওয়া টাকা, স্বর্ণ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপি মতিঝিল জোনের ডিসি উপপুলিশ কমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সোহেল (৩০), আক্তার ওরফে সোহরাব (৩২), আবির হোসেন ওরফে রাসেল (২৫) ও মো. রনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন নার্গিস আক্তার। সে সময় তার কাছে থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, স্মার্টফোন, হাতের ব্যাগে রাখা ৫ হাজার টাকা ও একটি বাটন ফোন ছিনিয়ে নেন ছিনতাইকারীরা। পরে গত শুক্রবার ভোরে পল্টন থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী কনস্টেবল। অভিযোগ পেয়ে গতকাল সোমবার রাতে মহাখালী থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজন পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। তারা একটি ছিনতাই করা পিকআপ নিয়ে রাতের বেলা সারা ঢাকা ঘুরে ঘুরে নির্জন স্থানে র‍্যান্ডম ছিনতাই কার্যক্রম করেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও মাদক মামলা আছে। বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তারা জেল খেটেছেন। জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজ করেন।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন জায়গার শতাধিক সিসি টিভি ফুটেজ দেখে এই চারজনকে শনাক্ত ও ডাকাতি আর ছিনতাইয়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা পিকআপটি তারা চার-পাঁচ দিন আগে অন্য কোথাও থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন। এই পিকআপ ব্যবহার করে তারা গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুর ও রাজাবাজার এলাকায় দুটি ছিনতাই করেন। পরদিন শনিবার বনানীতে একটি ছিনতাই ও তেজগাঁও এলাকায় একটি দোকানে ডাকাতি করেন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপি মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রওশানুল হক সৈকত বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা আছে, আক্তার ওরফে সোহরাবের বিরুদ্ধে চারটি ডাকাতি ও মাদকসহ আরও দুটি মামলা আছে, আমির হোসেন ওরফে রাসেলের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, একটি দস্যুতা ও মাদকসহ আরও তিনটি মামলা এবং মো. রনির বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও মাদকসহ আটটি মামলা আছে।’

গ্রেপ্তারের সময় এই চারজনের কাছে থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, একটি পিকআপ ও লুটে নেওয়া টাকা এবং চারটি স্মার্টফোন ও তিনটি বাটন ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আরও পড়ুন