সর্বশেষ

আমার ভুল হয়ে গ্যাছে, বুঝতে পারি নাই: ফরিদপুরের আলোচিত রুমা

“আমি আসলে বুঝতে পারি নাই বিষয়টি এতো দূর গড়াবে। আমার দুই কাকি অনেক কান্নাকাটি করে মেয়েটারে নির্যাতনের ব্যাপারে অনেক কথা বলতেছিলো। আমার খুব খারাপ লাগতেছিলো উনাদের কথা শুনে। এইজন্য আমি ওদের মারছি।”

ফরিদপুরের মধুখালীতে বাবা আর তার ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি রুমা (৩৪) গ্রেফতারের পর একথাই বলেন সাংবাদিকদের।

গত ১৭ মার্চ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ইয়ামিন মৃধা (৪০) ও তার ছেলে রাজন মৃধাকে (১৫) পাশবিকভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার দুই মাস পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় রুমাকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতার রুমা মাঝকান্দির জনৈক নাজিম উদ্দীনের মেয়ে।

জন্মের পর মা হারানো মেয়েকে মায়ের আদর দিয়ে বড় করে তোলা বাবা আর আপন ভাইয়ের মতোই আদর স্নেহ দেয়া ভাইয়ের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপন। এরপর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আটকে তাদের মধ্যুযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আর বাবাকে বাধ্য করা হয় তার ছেলের বিরুদ্ধে বোনকে ধর্ষণের মামলা দায়ের করতে।

তবে ঘটনার সাতদিন পরে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য।

ভিডিওতে দেখা যায়, নামতার ছন্দে ছন্দে স্কুল কক্ষে আটকে প্রথমে ছেলেকে ও পরে বাবাকে পেটানো হয়। পেটানো শেষে মাথার চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে রুম থেকে তাদের বের করে নিতেও দেখা যায় এই রুমাকেই। লোমহর্ষক এ নির্যাতনের ভিডিও দেখে শিউরে ওঠেন সকলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) শেখ মো. আব্দুল্লাহ বিন কালাম জানিয়েছেন, আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান লিপি তার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইভা (৮) কে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। তার এ উদ্দেশ্য সফল করতে মেয়েটির সৎ বাবা ও ভাইকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

গত ১৭ মার্চ এ নির্যাতনের ঘটনার দুই মাস পর ১৭ মে পুলিশ এ ঘটনার অন্যতম আসামি রুমাকে গ্রেফতার করেছে। সেই রুমা এখন গ্রেফতারের পর বলছে, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি যে বিষয়টা এতদূর আসবে।

অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তার দাবি, প্রতিবেশী জনৈক মোস্ত এবং বাশারের স্ত্রী সম্পর্কে কাকী তূল্য দুইজন নারী মেয়েটির ব্যাপার নিয়ে অনেক কান্নাকাটি করতে দেখে তার অনেক খারাপ লেগেছিলো।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রুমা বলেন, আমরা সেদিন যখন সেখানে প্রবেশ করি, দেখি সেখানে লিপি ম্যাডাম, হেডমাস্টার, হেডমাস্টারের সামনে আরও একজন লোক ছিল চেহারা দেখলে চিনি, মেয়ের বাবা আর আর দুজন হিন্দু মহিলা ছিলেন ওই স্কুলের মাস্টার। আমরা যখন সেখানে ঢুকলাম তখন উনারা স্ট্যাম্পের বিষয় নিয়ে কথা বলছিল।

সেদিন তারা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার করে ওই মেয়েটিকে স্কুল শিক্ষিকা ইশরাত জাহান লিপির কাছে তুলে দিতে বলেছিলো মেয়েটির বাবাকে।
রুমা বলেন, রেশমা আর রাশেদা বলছিল এসব। তখন আমি বলেছিলাম, আপনারা যেটা শোনার সেটি শোনেন না। খালি স্ট্যাম্প স্ট্যাম্প করতেছেন।

তিনি বলেন, আমি নিজে এই মেয়েটার সাথে কথা বলছিলাম। আমি নিজে তখন জিজ্ঞেস করছিলাম, তুমি কার সাথে যাবা? মেয়েটা বলছিল আমি ম্যাডামের সাথে যাব। এই কারণে আমার আরো সন্দেহ হয়। তারপর আমি ওদের পিটাইছি। “স্যার, আমি আসলে বুঝতে পারি নেই বিষয়টা এতদূর গড়াবে। আমার আসলে ভুল হয়ে গেছে।”

আরও পড়ুন