চট্টগ্রাম কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেছেন, দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে স্মার্ট সিটিজেন লাগবে। দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করার প্রধান হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের জন্যে ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দিয়েছেন সমৃদ্ধি। আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আজ ২৪ মে (বুধবার) সকাল ১১ টায় বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগর সম্মেলন কক্ষে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগর এর ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আফতাব আলী শেখের সভাপতিত্বে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। জ্ঞান ও প্রযুক্তি দিয়েই সমস্যার সমাধান করতে হবে। দূর করতে হবে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস; ছড়িয়ে দিতে হবে যুক্তিনির্ভরতা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। আমাদের পরবর্তী প্রজš§কে অবশ্যই বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল চাবিকাঠি হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজের জন্য ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গড়ার লক্ষ্য পূরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে। নির্বিঘ্নে সেবা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম বুনিয়াদ হচ্ছে স্মার্ট গভর্নমেন্ট। কর্মকর্তাদেরকে এই ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে গিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড: নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হবে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। স্মার্ট বাংলাদেশ হবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সোসাইটির ওপর ভিত্তি করে।
কর্মশালায় সর্বমোট উপস্থিত ৬৩ জন প্রতিনিধির মধ্যে ২৫ টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৩১ জন, ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ হতে আগত ১৮ জন শিক্ষক এবং ৬ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা। তিনি বক্তব্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিসিএসআইআর এর সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করায় সকলকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসিএসআইআর-এর সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ড. জুয়েল দাশ। তিনি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের কার্যক্রমগুলো তুলে ধরেন।
উপস্থিত ছিলেন বিসিএসআইআর চট্টগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. দীপংকর চক্রবর্তী, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শ্রীবাস চন্দ্র ভট্টচার্য, প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. সাইফুল ইসলাম, বনফুল এন্ড কোম্পানী জিএম শাহ কামাল মোস্তফা, সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার রাশেদা আক্তার, সুমন দাশ, মো: সাইদুর রহমান, মো: আবু বকর, মাকসুদা বেগম, আবু জাহান মো: মোরশেদ, নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম প্রমুখ।
