সর্বশেষ

অবৈধ মজুদদারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত: ভোক্তা-অধিকার মহাপরিচালক

অবৈধ মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে রাজনৈতিক অঙ্গিকার খুবই জরুরি। রাজনৈতিক দলসমূহ আগামী নির্বাচনের আগে ইশতেহারে ভোক্তা অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

শনিবার (২৭ মে ) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রতিটি ভোক্তারই নিরাপদ, মানসম্পন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে ভোক্তারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

উপযুক্ত প্রমাণসহ নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে প্রতিকার পাওয়া যায়। অনলাইনে, মুঠোফোনে অথবা ইমেইলে এই অভিযোগ করা যায়। বিদ্যমান আইনে ভোক্তা কোন প্রতারণার অভিযোগ করতে চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে হয়।

বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান ও  ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ অন্যান্য অতিথিদের সাথে ট্রফি হাতে দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ১০ দফা সুপারিশ উত্থাপন করেন- ১) দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গিকার প্রদান করা। একই সাথে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী মেনুফেস্টে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা ২) অভিযান পরিচালনায় ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তরকে ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা ৩) একক সংস্থার মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা। ৪) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয় নিশ্চিত করা ৫) মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভূক্ত করা ৬) দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করাসহ অনলাইনে শুনানী করা ৭) ভোক্তা অধিকার আইনের ব্যাপক প্রচার প্রচারণাসহ সিন্ডিকেট কালোবাজারীর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শাস্তি টিভিসি, বিলবোর্ডসহ বড় বড় বাজারগুলোর সামনে প্রদর্শন করা ৮) ব্যবসায়ীদের জন্য ভোক্তা অধিকার বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স চালু করা এবং স্থায়ীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ কোর্সে ভোক্তা অধিকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা ৯) নগর এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠা করা ১০) ভোক্তা অধিকার আদায়ে নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে সামাজিক জাগরণ তৈরি করা।

চ্যাম্পিয়ন দলের বিতার্কিকদের ট্রফি প্রদান করছেন ভোক্তা অধিকার মহাপরিচালক ও  ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

‘ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার সুফল পাওয়া যাচ্ছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাহেদা পারভীন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু ইউসুফ ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ শাহরিয়ার। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক হিরযুন মীরা, স্থপতি সাবরিনা ইয়াসমিন মিলি প্রমুখ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন