চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ রাজপথের শক্তি। আওয়ামী লীগ ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেওয়া কোন দল নয়। আমাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় এই দল চলে। তারা রায় দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে রায় না দিলে রাজপথেই থাকবে।
তিনি আজ শনিবার বিকেলে পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দল সু-শৃঙ্খল থাকলে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে। মনে রাখতে হবে ঐক্যই আমাদের শক্তি। তাই বিভাজন বা বিরোধ নয়, কোন সমস্যা বা মত বিরোধ থাকলে আসুন একসাথে বসে সবকিছু ঠিক করে নেব। কিন্তু সামান্য বিরোধকে পুঁজি করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে। কারো ব্যক্তিস্বার্থ দলের জন্য প্রধান বিবেচ্য বিশেষ নয়। তাই সংগঠনের তৃণমূল স্তরের ঐক্যের ভিত্তিটাকে জাগ্রত করতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বিকশিত হতে চায়। এজন্য আমাদের প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে ইতিবাচক অবদান রাখতে হবে। যারা অবদান রাখবেন তারাই আগামীতে নেতৃত্বে আসবেন। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো দেশ ও জাতির কল্যাণ ও প্রগতি। আমাদের নেতা একজনই উনি শেখ হাসিনা। তিনি ছাড়া আমরা কেউ দলের জন্য অনিবার্য নয়। সময়ের দাবী অনুযায়ী যারা যোগ্য তারাই নেতৃত্বে আসবেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। বিএনপি-জামাতের নাশকতা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে আগামীকাল ২৮ মে রোববার বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক লালদিঘীর ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এই জনসভায় মিছিল ও ব্যানার ফেস্টুন সহকারে যোগদানের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট কে নির্দেশনা দেন। তিনি আরো বলেন, আমরা যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত কেননা আমাদের শক্তি জনগণ। এই জনগণ আমাদের পাশে আছে। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কী অবদান রেখেছে এই বার্তাগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারলে আমরা বিজয়ী হবো। বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের দোহাই দিয়ে রাজপথ গরম করতে চায় কিন্তু তারা জানে না যে, সবার আগে তাদের দলের সংস্কার না হলে কোন দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মুখ দেখবে না। কেননা তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল আইনগতভাবে অবৈধ ও অসাংবিধানিক। একইভাবে দলটিরও সাংঠনিক ভিত্তি নেই।
ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কমিশনার জহির আহমেদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সালা উদ্দিন ইবনে আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এম.এ লতিফ এমপি, মাহবুবুল হক মিয়া, সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিএনসি স্পেশাল, এম এ ছালাউদ্দিন। বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী, মোঃ ছানাউল্লাহ, আব্দুল মালেক, আবু তাহের, রানা বিশ্বাস, ইউনিট আওয়ামী লীগের মাহবুবুল আলম জনি, আবু নাঈম, সালেহ আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। সভামঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, হাজী মোঃ হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, বখতেয়ার উদ্দীন খান প্রমুখ।
ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদকে সভাপতি ও মুজিবুল হক পেয়ারুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
