বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি বলেন, এই বিপ্লব তীর্থ চট্টগ্রাম এম.এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম. এ হান্নান ও চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চট্টগ্রাম। এই মাটি কখনো পরাভব মানেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমার এই ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে প্রথম প্রকাশ্যে জনসভায় বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা জনগণের সামনে উপস্থাপিত করেছিলেন। যারা স্বাধীনতা চায় নি এবং এখনো পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখছে এই মাটি থেকেই তাদের মরণযাত্রা শুরু হবে। তিনি আজ রোববার বিকেলে জামাত-বিএনপির অরাজকতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ বছর ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে যে জায়গায় উত্তীর্ণ করেছেন এতে বিশ্ববাসী প্রশংসার বন্যায় আমাদের নেত্রীকে ভাসিয়েছেন। একটি অনুন্নত ও গরীব দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। অনেক দুর্যোগ-দুর্বিপাকের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবেই। এটা হয়তো বা কোনো কোনো মহলের সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা বিগত দিনে কম করে ২১বার শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আল্লাহর রহমতে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন এবং আমাদের সকলের মঙ্গল, কল্যাণ ও প্রগতির জন্য তিনি বেঁচে থাকবেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগে আর কেউ অপরিহার্য নয়। তিনিই একমাত্র নেত্রী এবং আমরা সকলেই তার বিশ্বস্ত কর্মী। এটাই আমাদের অহংকার ও গর্ব। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অতীতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্র হবেই; তবে কোন ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগকে নিচিহ্ন করতে পারেনি, বরং যারা আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিতে চেয়েছে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি আজকের এই বিশাল সফল জনসভা আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সকলের সাথে সমন্বয় সাধন করে যে প্রতিবাদী জনসভা করেছেন তা আমাদের দলীয় ঐক্যকে শক্তি ও সাহস যোগাবে।চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সকল সময় অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং সবধরণের প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে সত্য সুন্দর, কল্যাণ ও প্রগতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকের এই জনসভায় সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণের উপস্থিতির মাধ্যমে জানান দিতে চাই কোন শক্তি আওয়ামী লীগকে রুঁখতে পারবে না। যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কবরে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে তাদেরকেই কবরে যেতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, আমরা অনেক সহ্য করেছি আর সহ্য করবো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়া মাত্রই আমরা ডাইরেক্ট অ্যাকশন এ যাবো। মনে রাখতে হবে এটা ১৯৭৫ সাল নয় এটা ২০২৩ সাল। আগামী বছর জানুয়ারীতে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী ও শফিকুল ইসলাম ফারুকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, এম.এ লতিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, শফিক আদনান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আব্দুল লতিফ টিপু, ড. নেছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক এ.এইচ.এম. জিয়াউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক কে.বি.এম. শাহজাহান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা শেখ মোঃ ইছহাক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হাজী মোঃ হোসেন, জহুর আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, জোবাইরা নার্গিস খান, মাহবুবুল হক মিয়া, আবু তাহের, ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, শহিদুল আলম, জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, সৈয়দ আমিনুল হক, আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, আলহাজ্ব দোস্ত মোহাম্মদ, গাজী শফিউল আজিম, এড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, কামরুল হাসান বুলু, বখতেয়ার উদ্দীন খান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, হাজী বেলাল আহমদ, মোঃ মোর্শেদা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।এছাড়া ১৫ টি থানা, ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।
