মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে অদ্য বিকাল ৪টার সময় লালদিঘির পাড়স্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এড. আবুল হোসেন সিকদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে মুনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জাহাঙ্গীর আলম হেলালী। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ অগণতান্ত্রিক। বিনাভোটের সরকার আজ দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছে। দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায় অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকারের কারণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষ খুব দুরাবস্থায় দিন যাপন করছে। এই স্বৈরাচারি সরকার হামলা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীকে দমিয়ে রাখতে চায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরন করে আবার অগতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার কারণে বাকশাল একদলীয় শাসন তন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়ে আওয়ামী লীগ আজকে রাজনীতি করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশে গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
আজ আইনের শাসনকে ভূলুণ্ঠিত করে অন্যায়ভাবে নিরাপরাধ একজন দেশপ্রেমিক এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। প্রধান বক্তা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ১৯৮১ সালের ৩০ মে যখন শাহাদাত বরণ করেন তার তিন ঘণ্টা পূর্বে আমার সাথে সর্বশেষ সাক্ষাত হয়েছে। আজকে যারা বলেন, দলীয় কোন্দল মিটাতে এসে চট্টগ্রামের শাহাদাত বরণ করেছেন জিয়া। এটি একটি মিথ্যা প্রবাদ। তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। যার সাক্ষ্য প্রমাণ আমি। তিনি চট্টগ্রামে আসার পূর্বে তার সাথে আমার টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তিনি দলীয় কোন নেতা কর্মীকে এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার জন্য নিষেধ করেন। তখন তাকে রিসিভ করলেন প্রশাসের লোকেরা। তাকে হত্যা করেছিল তৎকালীন সেনাবাহিনী কিছু দুষ্কৃতকারী অফিসারেরা। শহীদ জিয়ার মতো দেশপ্রেমিক আর একজন নেতা কখনো সৃষ্টি হবে না। বিশেষ অতিথি এড. আবু তাহের বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের কর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারে পেটুয়া লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা মামলা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।
আজকে জিয়াউর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান বীর চট্টলার অবিসংবাদিত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান ও নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদিকা এড. নিপুন রায়ের উপর হামলা গতকাল শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় সাধারণ জনতাকে উস্কানী দিয়ে পুলিশ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা সিনিয়র এড. নুরুল ইসলাম, এড. খায়রুল ইসলাম বেলাল, সাংস্কৃতিক দলের সহ সভাপতি সাবেক ভিপি সাইফুল আলম, হাফিজুল ইসলাম মজুমদার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক সনজয় আচার্য্য, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি আমান উল্লাহ, সাংস্কৃতিক দলের সহ সম্পাদক মো: সাহাবউদ্দিন, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, বিশিষ্ট কর আইনজীবী নেতা চৌধুরী খালেদ বিন সরোয়ার জনি, মো: ইউছুফ, মো. নুরুল আজিম, মো. সাইদুল হক মজুমদার, রমজান আলী মুরাদ, মো. ইউছুপ, মো. দেলোয়ার প্রমুখ। নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ অসহায়। তার থেকে বাঁচানোর জন্য আজকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাইকে অংশগ্রহণ করে গণতন্ত্র মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় দেশ ও জাতির কল্যাণে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং বিএনপির চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করেন।
