সর্বশেষ

জাতিসংঘে সম্মেলনের নামে মানব পাচার, নেওয়া হয় জনপ্রতি ২৫ লাখ

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা, ফ্রান্স ও ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে মানব পাচারের নতুন ফন্দি আঁটছে এক চক্র। তারা গড়ে তুলেছে নাম সর্বস্ব মানবাধিকার সংগঠন। সেই সংগঠনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভুয়া তথ্য দিয়ে ইমেইল পাঠায়। জাতিসংঘ অনুমতি দিলে পরবর্তীতে ভিসার জন্য ওই সব দেশের দূতাবাসে আবেদন করে ভিসা সংগ্রহ করে। সেখানে গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে থেকে যায়। আর এভাবে বিদেশ যেতে জন প্রতি ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিচ্ছে চক্রটি।

সম্প্রতি আমেরিকান দূতাবাস এমন এক চক্রকে শনাক্ত করে। পরে চক্রটির বিরুদ্ধে ডিএমপির গুলশান থানায় গত ২১ মে একটি মামলা করে। মামলাটির তদন্তভার পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) এর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহিউদ্দিন জুয়েল, মো. উজ্জ্বল হোসাইন ওরফে মুরাদ, মো. এনামুল হাসান, শাহাদাদ ও হাদিদুল মুবিন। মহিউদ্দিন ‘প্রোটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান পরিচয়ে মানবাধিকার সংস্থার আড়ালে প্রতারণা ও মানব পাচার করেন। উজ্জ্বল প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পরিচয়ে প্রতারণা ও মানব পাচার করেন।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চক্রটি মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে মানব পাচার করে আসছে। তারা এই পন্থায় আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে লোক পাঠিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। চক্রের আরও চার থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার উজ্জ্বল আন্তর্জাতিক মানব পাচার এবং প্রতারক চক্রের মূল হোতা। নাম সর্বস্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রোটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’র আড়ালে ২০১৯ সাল থেকে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে আমেরিকা, ফ্রান্সসহ অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে মানব পাচার করে আসছে। মূলত প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিভিন্ন লোকজন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ দায়ের করে। তখন এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মো. উজ্জ্বল হোসাইন ও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন জুয়েল তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির আড়ালে কৌশলে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। তাদের ইউরোপ আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত বিশ্বে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ এর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল এর বিভিন্ন সম্মেলনসহ জাতিসংঘের অন্যান্য সম্মেলন এর বিজ্ঞপ্তিগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখেন রাতা। ওই সব সম্মেলন গুলোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাওয়া মাত্রই তারা ‘প্রোটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’ এর বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে সম্মেলনে যোগদানের জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তর এর সংশ্লিষ্ট বিভাগে ইমেইল পাঠাতেন।

মো. এনামুল হাসান ‘প্রোটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’ এর ডেপুটি ডাইরেক্টর, শাহাদাদ কমিউনিকেশন অফিসার, হাদিদুল মুবিন উপপরিচালক সেজে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গত ১৭ থেকে ২৮ এপ্রিল এবং ৪ মে আদিবাসী ইস্যু প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের কথা বলে জাতিসংঘের কাছ থেকে ইনভাইটেশন লেটার নেয়। পরবর্তীতে আমেরিকার ভিসা পাওয়ার জন্য ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসে হাজির হয়ে ‘প্রোটেকশন ফর লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’ এর নামে জাল কাগজপত্র দাখিল করে অবৈধভাবে আমেরিকার ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদন করে। মহিউদ্দিন জুয়েল ও মো. উজ্জ্বল হোসাইন ওরফে মুরাদ তাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিকে জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল এর বিশেষ পরামর্শদায়ক দাবি করে।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশে মানব পাচারে অভিনব কৌশল এটি, বলা যায় মানব পাচারের স্টান্ডার্ড ওয়ে এটি। চক্রটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।

আরও পড়ুন