ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিয়ের পিঁড়ি থেকে বধূসজ্জিত কনে থানায় হাজির হয়ে বরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে নান্দাইল মডেল থানায় উক্ত বরসহ আরও ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উক্ত বরের নাম জুবায়েল আহমেদ (২২)। তিনি নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র। শনিবার একই ইউনিয়নের দেউলডাংরা গ্রামের শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে গার্মেন্টকর্মী স্মৃতি আক্তারের (২০) সঙ্গে জুবায়েল আহমেদের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। সেজন্য কনের বাড়িতে বিয়ের দুটি গেটসহ বিবাহ অনুষ্ঠানে ৪০০ জন লোকের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়। সব আয়োজন সম্পন্ন। বধূবেশে সজ্জিত স্মৃতি আক্তার বিয়ের পিঁড়িতে এবং বাড়ির লোকজন বরের অপেক্ষা করছেন।
কিন্তু বর আগমনের পরিবর্তে বরের মা রেহেনা আক্তার এবং পিতা নজরুল ইসলাম কনের বাড়িতে এসে জানান যে, তাদের পুত্র (বর) জুবায়েল আহমেদ এ বিয়েতে রাজি নয়। ফলে এ বিয়ে সম্ভব নয়। ফলে সব আনুষ্ঠানিকতা নষ্ট হয়।
কিন্তু কনে স্মৃতি আক্তার জানান, বর জুবায়েল আহমেদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর যাবত তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। প্রেমের সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে বরের একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জুবায়েল আহমেদ তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিয়ের কথা বলে জাহাঙ্গীপুর ইউনিয়নের বরের মামা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে কাজলের বাড়িতে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর ওই রাত ৮টার সময় তাকে বিয়ে করার জন্য নান্দাইল হাসপাতালসংলগ্ন নুরুল ইসলাম কাজির বাসার পাশে নিয়ে আসে এবং তিন মিনিট অপেক্ষার করার কথা বলে বর জুবায়েল আহমেদ পালিয়ে যায়।
এদিকে বিষয়টি দুইপক্ষে জানাজানি হলে উভয়পক্ষই বিবাহবন্ধনের জন্য আট লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে দিন-তারিখ ঠিক করেন; কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন শনিবার কনের বাড়িতে বিয়ের সমস্ত আয়োজন থাকলেও বিবাহ করতে আসেননি বর। ফলে এ বিষয়ে কনে স্মৃতি আক্তার বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা চলছে। যদি বিষয়টির সমাধান না হয়, তবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
