হাসান মুকুল
তারুণ্যের সমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে নেতা কর্মীরা এখন চাঙ্গা। নেতা কর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দিনের লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমাবেশকে সামনে রেখে জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন থানাও উপজেলা ওয়ার্ডে চলছে প্রচার প্রচারণা। যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা ও অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে। তারাও বিভিন্ন জেলায় প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ১৪ই জুন চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে এই সমাবেশের স্থান।দুই যুগেরও বেশি সময় আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আউটার স্টেডিয়ামের সমাবেশ করেছিলেন। এরপর আর হয়নি এখানে কোন সমাবেশ।
১৪ তারিখ তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও যুবদল ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

এ দিকে চট্টগ্রামের তারুণ্যের সমাবেশকে গীরে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে নেতা কর্মীদের মাঝে।চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নেতা কর্মীরা। সমাবেশ উপলক্ষে নাসিমন ভবন কার্যালয়ে গত এক সাপ্তাহ থেকে চলছে প্রস্তুতি সভা।নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার পত্র বিলি ও গণসংযোগ করে যাচ্ছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
ইদানিং চট্টগ্রামে বিএনপির যে সব সমাবেশ হয়েছে তাতে অনেক নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। যাঁরা দীর্ঘ ১৫ বছর দলীয় কোন কর্মকান্ডে ছিল না। এ সব কিছু নেতা কর্মী এখন অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচিতে।অনেক নেতা আন্দোলনে প্রয়োজনে শহীদ হবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপি সারা দেশে তারুণ্যের সমাবেশের তারিখ ঘোষণা করলেও চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে এ সমাবেশ।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন স্বৈরাচার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়। এ কারনে চট্টগ্রাম কে আগে বেঁচে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন নেতারা।রাজধানীর পর চট্টগ্রামের স্থান। সরকারের আন্দোলন শুরু করতে গেলে চট্টগ্রামকে বেঁচে নিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
তারুণ্যের এ সমাবেশ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ সমাবেশে পরিণত করতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের পাশাপাশি নগর বিএনপির আহবায়ক ডা.শাহাদাত হোসেন সব কিছু দেখা শুনা করছেন।চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারনা। সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্করও বসে নেই। তিনি ছুটে চলেছেন নগরীর এক প্রন্তর থেকে অন্য প্রন্তরে। বিভিন্ন থানা ওয়ার্ড এর সভাপতি, সম্পাদক ও সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম তারুণ্যের সমাবেশ সফল করার লক্ষে সবকিছুর তদারকি করে যাচ্ছেন। এ জন্য তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি সভা করেছেন।
জাতীয়তাবাদী যুবদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ সভাপতি নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহেদ বলেন,তারুণ্যের সমাবেশের সফল করতে আমাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের সর্ববিহত।আমরা কাজির দেউরী মোড়ে সমাবেশ করবো ইনশাআল্লাহ।
চট্টগ্রাম মহানগরীর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম রাসেদ খান বলেন,আমাদের সকল প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি। সমাবেশ সফল করতে আমরা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি। সাধারণ মানুষ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না। মানুষ সবদিকে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে সরকারের অত্যাচারে। ১৪ই জুন চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু হবে বলে মনে করি।
নগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন,যুবকরাই শক্তি। যুবসমাজ জেগে উঠলে কোন স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় ঠিকে থাকত পারেনি পারবেওনা।চট্টগ্রাম থেকে ১৪ তারিখ যুবকরাই গর্জে উঠবে।চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে আন্দোলনের সূচনা।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা বলেন,চট্টগ্রাম থেকে বৃটিশ বিরোধী, স্বৈরচার ও স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়ে ছিল এবার শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন শুভ সুচনা হবে ১৪ জুন।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম বলেন,বেগম খালেদা জিয়ার পর এই প্রথম চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে সমাবেশ হচ্ছে। আমরা আশা করি মাঠ পূর্ণ হয়ে মানুষকে রাস্তায় ভরে যাবে। সমাবেশের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা কর্মীকে সমাবেশে আনার জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
