সর্বশেষ

এম.এ হান্নানের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং বেতারে এই ঘোষণা পাঠ নিয়ে জননেতা এম.এ হান্নানকে যারা বিতর্কিত করতে চায় ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী একদিন তারাই বিতর্কিত হবে। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ দুপুরে কালুরঘাট বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধুর প্রেরিত স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথম পাঠ করেছিলেন জননেতা এম.এ হান্নান। এটাই প্রকৃত সত্য এবং স্বীকৃত ইতিহাস। এই সত্যকে যারা অস্বীকার করে তারা তো বাংলাদেশ চায়নি এবং এখনো চায় না। আজ সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ বঙ্গবন্ধু হলে জননেতা মরহুম এম.এ. হান্নানের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে-বিদেশে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অশুভ শক্তি আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কুশীলগরা ১/১১ এর মতই একটি অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চায়। আরো লক্ষ্যণীয় যে, বিএনপির আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনিবন্ধিত জামাত মাঠে নেমেছে। বিএনপি মনে করছে তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আমেরিকা গ্রীণ সিগন্যাল দিয়েছে। তাই তারা উঠে-পড়ে লেগেছে যে, ২০০১ সালের মতই তারা ক্ষমতায় যাবে এবং আওয়ামী লীগ আর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কচুকাঁটা করবে। কিন্তু তারা জানে না বাঙালি ৭১ এর বিজয়ের জাতি এবং যুদ্ধ বিজয়ী শক্তি।

এই শক্তি অবিনাশী এবং অনির্বাণ। তিনি নেতাকর্মীদের প্রয়াত জননেতা এম.এ হান্নানের মতো সাহসী ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে রাজপথ ও নির্বাচনী মাঠে থাকার প্রস্তুতি ও সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জাহির করেন নি। তিনি ১৯৭৮ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির প্রতি স্বাধীনতা ঘোষণার একটি গ্রীণ সিগন্যাল। জিয়াউর রহমান এও উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধুর এই সিগন্যাল পেয়ে সেনাবাহিনার বাঙালি অফিসার ও সৈনিকরা এবং ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। এটাই ছিল স্বাধীনতার বীজবপন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আলহাজ্ব দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য বখতেয়ার উদ্দীন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, থানা আওয়ামী লীগের মোঃ আনছারুল হক, স্টিল মিল সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমান্ডার আবুল বশর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আতিকুর রহমান, কাজী রাশেদ আলী জাহাঙ্গীর, কাউন্সিলর আশরাফুল আলম, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, লুৎফুল হক খুশি। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শফিক আদনান, হাসান মাহমুদ শমসের, চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, হাজী মোঃ হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, মোঃ আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য মোঃ আবুল মনছুর, কামরুল হাসান বুলু, জাফর আলম চৌধুরী, এড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, মহব্বত আলী খান, ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, মোঃ জাবেদসহ বিভিন্ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় স্টেশন রোডস্থ চৈতন্যগলি কবরস্থানে প্রয়াত নেতা এম.এ হান্নানের কবরে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ শেষে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে এম.এ. হান্নানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আরও পড়ুন