সর্বশেষ

পুলিশী হয়রানি বন্ধ করা না হলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি -ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়খ ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,পরিকল্পিতভাবে জামালখানের ঘটনা ঘটিয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ। আমরা চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। কিন্তু সঠিক তদন্ত না করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবেন, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। পুলিশী হয়রানি বন্ধ করা না হলে আমরা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান ডা. শাহাদাত।

তিনি আজ দুপুরে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে,চট্টগ্রামের বর্তামান পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন।এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপি নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন, আবু সুফিয়ান,আলহাজ্ব এমএ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম,এডভোকেট আবদুস সাত্তার, কাজী বেলাল,ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান,শাহাআলম,শফিকুর রহমান স্বপন,মোশাররফ হোসেন দীপ্ত, মোহাম্মদ সাহেদ,এ এইচ এম রাসেদ,মনোয়ারা বেগম মনি,জেলী চৌধুরী, সাইফুল আলম প্রমুখ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপির যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল তিন অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে কাজীর দেউড়ি মোড়ে দেশ বাঁচাতে তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় গত ১৪ জুন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাজীর দেউরীর আশেপাশের এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমাবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। মূলত তারুণ্যের সমাবেশ কর্মসূচি করার কথা ছিল গত ১১ জুন। কিন্তু যুবলীগ একই দিন পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় আমরা সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমাদের কর্মসূচি পিছিয়ে ১৪ জুন করি। এরপরও যুবলীগ আমাদের সমাবেশের দিন শান্তি সমাবেশের নামে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করেছে। ঐদিন আমাদের সমাবেশে যোগদানের জন্য যুবদল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসার পথে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে ও জামাল খান মোড়ে তারা হামলা চালিয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহত করে। পরে উল্টো বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ, এম আই চৌধুরী মামুন, যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন ও এমদাদুল হক বাদশা সহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে কোতোয়ালি ও চকবাজার থানায় ২ টি মামলা দায়ের করে। পুলিশ বুধবার রাতে চাঁন্দগাও মৌলভী পুকুর পাড়স্থ বাসা থেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা নওশাদ ও তার প্রবাসী ভাই সহ আটজনকে গ্রেফতার করে। এভাবে বুধবার সারারাত বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তল্লাশীর নামে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করে ২৫ জনকে গ্রেফতার করে। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের কারো ছবি নাই। এটা বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ডা. শাহাদাত বলেন,পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামাল খান মোড়ে ম্যুরাল ভাঙ্গার অভিযোগ করা হয়। অথচ এই ঘটনার সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের দুরতম সম্পর্কও নাই। বরং এর আগের দিন মহানগর যুবলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপ জামাল খান মোড়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। এই মারামারি থেকেই বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করে। এই যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথে জামাল খান মোড়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবুব সিদ্দিকী
সহ নিরহ ৫ জনকে ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে গণগ্রেফতার শুরু করেছে । বুধবার রাতে চট্টগ্রামের সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজ বাসায় ফেরার পথে মিরশরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ইসাখালী বাজার এলাকায় ছাত্রদল নেত্রী নাদিয়া নুসরাতকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শারীরিক হেনস্তা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, বিএনপি প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করেছে। কিন্তু যুবলীগ ছাত্রলীগ কেন ঐদিন সমাবেশের নামে বিভিন্ন রাস্তায় দাড়িয়ে আমাদের মিছিলে হামলা করলো? আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিল? এর দায় কে নেবে? এখন প্রশাসন অথবা আওয়ামীলীগকে এর দায় নিতে হবে। আমরা মনে করি, আওয়ামীলীগ চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করে একটা ইস্যু সৃষ্টি করার জন্য

তিনি বলেন,আপনারা আরো জানেন যে, গত বুধবার আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা শহীদ জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ষোলশহরস্থ বিপ্লব উদ্যানের নামফলক কালী দিয়ে মুছে দিয়েছে। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলায় এক অনিশ্চয়তার মধ্যে শহীদ জিয়া এই ষোলশহর বিপ্লব উদ্যান থেকেই পাক বাহীনির বিরুদ্ধে “উই রিভোল্ট” বলে বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন। এর আগেও তারা কাজীর দেউড়ি জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম কালি দিয়ে মুছে দিয়েছিল এবং শহীদ জিয়ার ম্যুরাল সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে দিয়েছিল।

আমাদের বক্তব্য হলো, মিথ্যা মামলা দায়ের করার পর থেকে পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের ধর পাকড় করছেন, নির্যাতন করছেন, সাধারন মানুষকে হয়রানী করছেন। চাঁন্দগাওয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা সাবেক ছাত্রদল নেতা নওশাদকে ফাঁসানোর জন্য এনায়েত বাজারের গোয়াল পাড়া থেকে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়। চকবাজার থানার মামলায় ৪৫নং ক্রমিকে মোঃ ইউসুফ নামে যাকে আসামী করা হয়েছে সে বাংলাদেশেই ছিলনা। তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থান করছিলেন। অথচ পুলিশ বলছে ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলায় আসামী করা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন ভারতের চেন্নাইয়ে থাকা ব্যক্তি কি করে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল।

মুলত চকবাজার থানা ও কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বাকলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শামীম ও জাহাঙ্গীরকে চকবাজার থানা পুলিশ বাসা থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে নির্দয়ভাবে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জখম করে। যদি মামলার আসামিও হয় তাহলে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে। কিন্তু তাদেরকে মারধর করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?

ডা. শাহাদাত আরো বলেন,মিছিল সমাবেশ ও সভা অনুষ্ঠান করা আমাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার। বর্তমানে জনগণের ওপর সরকারের কোনো আস্থা নেই। আর তাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিএনপির ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে। প্রশাসন যন্ত্রকে তাদের অবৈধ ক্ষমতায় ঠিকে থাকার খুটি হিসাবে ব্যবহার করছে। সকল রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে কর্তৃত্ববাদী শাসন চিরস্থায়ী করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অবিলম্বে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ, এম আই চৌধুরী মামুন, যুবদল নেতা মোশারফ হোসেন ,মোশারফ হোসেন ও এমদাদুল হক বাদশা, সহ দায়েরকৃত সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেফতারকৃত নওশাদ আল জাসেদুর রহমান, মাহবুব সিদ্দিকীসহ সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির জানানো হয়।

আরও পড়ুন