সর্বশেষ

পরাক্রমশালী দেশের লোলুপ থাবার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যথার্থ চপেটাঘাত করেছেন-আ.জ.ম নাছির

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আজ থেকে ৭৪ বছর আগে এই দিনে একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শামসুল হকের আহ্বানে ও নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাবন্ধি থাকলেও তাঁর পরামর্শ করেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল। জন্মের পর আওয়ামী লীগের ৭৪ বছরের ইতিহাস ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস এবং এদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক সাধিকার আন্দোলনসহ সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াইগুলোতে আওয়ামী লীগই নেতৃত্ব দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ৬দফাকে বঙ্গবন্ধু এক দফায় পরিণত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। এই বাংলাদেশেও যা কিছু অর্জিত ও সফলতা এসেছে তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম পুরাতন রেলওয়ে চত্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আনন্দ র‌্যালী পূর্ব এক বিশাল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের পর সদ্য স্বাধীন দেশে যখনই বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে ৭১ এর পরাজিত শক্তি প্রত্যক্ষ ইন্ধনে তাদের এদেশীয় এজেন্ডা বঙ্গনন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তারপরও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয় নি। তাই দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা দল ও জাতির হাল ধরে দলকে পুনঃগঠন এবং দেশের মানুষের সার্বিক অর্থনীতির মুক্তি অর্জনের পথে যে সফলতাগুলো অর্জন করেছেন তাও নজীরবিহীন। তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, মার্কিন স¤্রাজ্যবাদ ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে লিবিয়া গাদ্দাফীসসহ বৈশ্বিক মানবতাবাদী নেতা পেট্রিক লুবাম্মা, মার্কিন লুথার কিং, আনোয়ার সাদেকসহ বিশ্ব নেতাদের খুন করেছে। এখন তাদের টার্গেট বিশ্ব মানবতার নেতা শেখ হাসিনা। কারণ তিনি পৃথিবীর সকল শোষিত মানুষের মুক্তিদাতা নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু বাঙালি জাতি সত্ত্বার নয়, সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের আবেগ অনুভূতির নাম। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম এই সংগঠনটি সারাবিশ্বের সকল মুক্তিকামী জাতির পথচলার সাহসী ঠিকানা। আওয়ামী লীগ জন্ম থেকে সাধারণ মানুষের সাথেই ছিল এবং জনগণই তার ক্ষমতার উৎস। ১৯৭১ সালে এটা প্রমাণিত হয়েছে। ঐ সময় সমগ্র বাঙালি বঙ্গবন্ধুর পেছনে ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, স্বাধীন হতে পেরেছে। এখনও যদি আমরা দলীয় ঐক্যের সুদৃঢ় ভিত্তিকে শক্তিশালী করে সমগ্র জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি তাহলে শেখ হাসিনা অবশ্যই ধারাবাহিকভাবে ৪র্থ বারের মত প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন এবং পৃথিবীর কোন শক্তি নেই শেখ হাসিনা ও নৌকার বিজয়কে ঠেকাতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে পরাক্রমশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছিল। তারপরও বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছিল এবং বিরোধীরা ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী পরাজিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো ও দাদাগিরিকে সা¤্রাজ্যবাদী আগ্রাসন অপচেষ্টা হিসেবে অবিহিত করে বলেন, মার্কিনিরা আবারও বাংলাদেশের উপর লোলুপ দৃষ্টি ফেলেছে তাই শেখ হাসিনা তাদেরকে যথার্থ চপেটাঘাত করেছেন।

তিনি বাংলাদেশের এক ইঞ্চি পরিমাণ জমি কোন পরাশক্তির কাছে বিক্রি না করার যে প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন তা সত্যিকার অর্থেই গর্বিত বাঙালির আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। বঙ্গবন্ধু অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সেন্টমার্টিন দিবে নৌ ঘাটি নির্মাণ ও সামরিক স্থাপনার বন্ধক দিতে রাজি ছিলেন না বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা এই মার্কিনি প্রলোভনকে সাহসভরে প্রত্যাক্ষানের হিম্মত রাখেন। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি এটাই আমাদের একমাত্র অহংকার ও গর্ব।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাছান মাহমুদ হাসনীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. সুনীল কুমার সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, উপদেষ্টা আলহাজ্ব সফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাজী মোঃ হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জোবাইরা নার্গিস খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য এড. কামাল উদ্দীন আহমেদ, কামরুল হাসান বুলু, বখতেয়ার উদ্দীন খান, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, জাফর আলম চৌধুরী, মহব্বত আলী খান, আব্দুল লতিফ টিপু, হাজী রোটারিয়ান মোঃ ইলিয়াছ, ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, মোঃ জাবেদ, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ। এছাড়া ১৫টি থানা ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব্যানার ফেসটুন, বাদ্য-বাজনা সহ সমাবেশ ও আনন্দর‌্যালীতে যোগদান করেন। আনন্দ র‌্যালীটি পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে বের হয়ে স্টেশন রোড, নিউ মার্কেট, দোস্ত বিল্ডিং, কোতোয়ালীর মোড়, লালদিঘীর মোড়, বকসির বিট, জুম্মা মসজিদ, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, চেরাগী মোড় হয়ে জামালখান রোডস্থ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সমাপ্ত ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন।
এর আগে সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।
সমাবেশের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শামসুল হকসহ যেসকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী শহীদ ও প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন হাজী মোঃ হোসেন।

 

আরও পড়ুন