সর্বশেষ

বাংলার স্বাধীনতার পতন ও নব্য মীর জাফর শীর্ষক সেমিনার সম্পন্ন

পলাশী দিবস উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম কর্তৃক ঐতিহাসিক পলাশী দিবস ও বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ২৬৬তম শাহাদত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে “বাংলার স্বাধীনতার পতন তথা নব্য মীর জাফর” শীর্ষক সেমিনার আজ ২৩ শে জুন ২০২৩ইং বিকাল ৪ টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন হলে সংগঠনের মহাসচিব এম.আবুল আব্বাস কাদেরীর সভাপতিত্বে ও এডভোকেট মুহাম্মদ এহছানুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুতুবদিয়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শাহ্ সুফী আল্লামা মহিউদ্দিন শাহ্ আবদুল মালেক (রহঃ) বড় ছাহেবজাদা উম্মুল মাদারেস চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসার খ্যাতিমান মুহাদ্দিস, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, শাহজাদা আল্লামা মনিরুল মন্নান আল মাদানী (মাঃজিঃআঃ)। উক্ত সেমিনারে পবিত্র কোরআনে হাকিম থেকে তেলোওয়াত করেন ক্বারী মুহাম্মদ হাসান নূরের তোলোওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তারপর সেমিনারে ‘বাংলার স্বাধীনতার পতন তথা নব্য মীর জাফর’ শীর্ষক বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল গবেষক এডভোকেট এহছানুল হক মিলন। প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মোঃ আবু সুফিয়ান, এ্যাড. আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট আফজাল আহমদ, মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক মোঃ কামাল পাশা প্রমুখ। আলোচকরা বলেন- পলাশী দিবস বাংলার ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ বিষাদময় ঘটনার সাক্ষী। ১৭৫৭ সনে ২৩ শে জুনের এই দিনে পলাশির আ¤্রকাননে স্বাধীনতার সূর্য স্থমিত হয়। যার সূত্রিতা শুরু হয়েছিল ১২০১ সনে মুসলিম সিপাহসালার সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিল্জী বঙ্গ বিজয়ের পথ ধরে প্রায় সাড়ে পাচঁশত বছরের অধিক কাল ধরে এদেশের জনগেীষ্ঠিী স্বাধীন। তবে দুঃখের বিষয় ১৭৫৭ সনের ২৩ শে জুন ইংরেজ পরাশক্তি ও এদেশীয় মীর জাফর গণদের কুটিল ষড়য়ন্ত্রের কারণে বাংলা বিহার উড়িষ্যার মানুষের ললাটে গোলামীর চিত্র ফুটে উঠে।

সেই মীর জাফর গণদের চক্রান্ত বিকৃত ইতিহাসের ধিকৃত যাত্রায় নবায়ন শুরু হয়েছে। অতএব জাতিকে সাবধান থাকা উচিত। ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন পলাশীর আ¤্রকাননে দূর্ভাগ্যজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে এক যুদ্ধের ময়দান। সংগঠিত ষড়যন্ত্রের নীল নকশায় এই যুদ্ধে পরাজিত ও নিহিত হন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ১৭৫৭ সালের এই দিনে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য স্থমিত হয়। ইতিহাস কতইনা নির্মম ও নিষ্ঠুর । যার সত্য দলিলকে অস্বীকার করার শক্তি কোন উম্মত বা অসভ্য জাতি ছাড়া অন্য কোন সভ্য জাতীর পক্ষে সম্ভব নয়। এ অঞ্চলের মানুষ ১২০১-৩ সালের প্রাক যুগের বহিরাগতদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছিল। মুসলিম সিপাহসালার সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিল্জী বাঙালী শেষ নৃপতি লক্ষন সেন (সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষন সেন) কে পরাজিত করলে বঙ্গে মুসলিম শাসনের সূচনা শুরু হয়। মুসলিম সালতানাত বা মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থা এই দেশের মানুষকে স্বাধীনতার আবহে এনে মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষা- সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সামাজিক উন্নয়নে যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠার সুযোগ করে দেয়। প্রান্তিক পর্যায়ে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মুসলিম শাসক গণ সারা পৃথিবীতে ইতিহাসের স্বীকৃতি পাই। প্রাক বাংলা ভারতের জনগৌষ্ঠী ইতিহাসের বিবেচনায় মুসলিম শাসনের সময়ে বৃহত্তর হিমালয়ের পাদদেশে এই অঞ্চল। আমাদের দেশের এই ভূখন্ডে বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাহ ছিলেন জাতি বা নাগরিক স্বার্থে সম্পূর্ণ স্বাধীন শাসক। মোগল আমলে আমরা একটি সম্বৃদ্ধ জাতি ছিলাম। ইংরেজরা আসার পর আমাদের অবস্থানের পরিবর্তন আসে।সুতরাং মুসলিম সালতানাত বা শাসন ব্যবস্থায় ক্রমিক পর্যায়ে এদেশের মানুষ ছিল স্বাধীন বিদায় ইতিহাস পর্যালোচনায় বর্তমান বাংলাদেশীদের স্বাধীনতা সেই ১৭৫৭ সনের ২৩ শে জুন চির পরাস্থান ঘঠে। কিছু সংখ্যক নিকৃষ্ট বিশ্বাস ঘাতক, সুযোগ সন্ধানী , লোভী আর হিংসুক মানুষরূপী জানোয়ার ও ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয় চরম বিপর্যস্থ অবস্থা। শস্য শ্যামল, স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জনপদের এই ধরনের পরাজয় পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মীর জাফর, জগৎেশঠ, রায় দূর্লভ ঘসেটি বেগম গণদের ক্ষমতার মৌহ এদেশের স্বাধীনতার পতন ঘঠিয়ে প্রায় ২০০ বছর এর কাল পঞ্জিতে ইংরেজরা এদেশ শাসন করে। ইংরেজরা বাংলায় শাসন ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে শঠতা , প্রতারণা,ষড়যন্ত্র ও বিভেদ নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেছিল ।

আর তাদের এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল হিন্দু শেঠ বেনিয়ারা, যাদেরকে বিশ্বাস করে মুসলিম শাসকরা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। যদিও প্রধান সেনাপতি হবার কারণে ঘটনাচক্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল অপদার্থ মীর জাফর , কিন্তু এর পেছনের প্রধান চক্রান্তকারীরা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা যে বলি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ এটা মূলত মোগল আমলে ঠিক ছিল। ইংরেজরা আসার পর রাজধানী নিয়ে গেছে কলকাতায়; তারা এদিকে নজর দেয়নি। ঐতিহ্যগত ভাবে যে আমরা একটি সম্বৃদ্ধ জাতি এটা রক্ষায় দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে গিয়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আলোচকরা আরো বলেন মুসলিম জাতি আজ এক যুগ সন্ধিক্ষণে উপস্থিত। এই জাতিকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে নিশ্চিহৃ করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ ও রাসূলের চিহিৃত দুশমনেরা উঠে পরে লেগেছে। ধর্মীয় শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে ইতোমধ্যে এরা কালো হাত বিস্তার করে ফেলেছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি চক্রান্তকারী মহাসমরের। কোন জাতিকে নির্মূল করার জন্য তার অতীত ইতিহাস, কৃষ্টি ও তামাদ্দুনকে বিকৃত করাই যথেষ্ট, তাই এরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতার পবিত্রতম অঙ্গনে ঝাঁকিয়ে বসেছে এবং সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে মুসলিম জাতির বংশধরদের গৌরবোজ্জল অতীত ইতিহাস সম্পর্কে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হয় এবং বিজাতীয় কালচারকে নিজের সংস্কৃতি হিসাবে মনে প্রাণে গ্রহণ করে।

অপরদিকে মুসলমানদের ঈমানকে টাকার বিনিময়ে ছিনিয়ে নেওয়ার কু-মতলব নিয়ে খ্রীষ্টান মিশনারী সাধু-রা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে এবং তাদের সাথে ইহুদিরাও মুসলমানদের দারিদ্রতার সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে এরা মোটেও ভুল করছে না। চিকিৎসার নামে মিশনারী হাসপাতাল নির্মাণ করে এই চক্রান্তকে প্রগাঢ় ও দৃঢ় করা হয়েছে। প্রতিটি খ্রীষ্টান হাসপাতাল এদের একেকটি দূর্গ। শুধু কি এখানেই শেষ? সমাজতন্ত্রের নামে আরেকটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারী দল ষড়যন্ত্রের সুক্ষ পথ বেছে নিয়েছে। মুসলিম যুব সমাজকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করার জন্য এরা স্বর্গপূরীর লালবই ম্যাগাজিন, ক্যালেন্ডার ব্যাপক ভিত্তিতে বিতরণ করছে এবং যুব সমাজের একটি অংশকে কা’বা থেকে মুখ ফিরিয়ে ক্রেমলিন প্রসাদ ও পিংকিমুখী করার নীল নকশা প্রস্তুত করেছে। এই তিনটি ষড়যন্ত্রকারী দল মুসলমানদের অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করার জন্য মরণপণ চেষ্টায় নিয়োজিত, আর এদের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে মুসলমান নামধারী ও মুসলমানদের ঘরে লালিত কতিপয় জ্ঞান পাপী আহলে হাদিস নামধারী জাহেল ও তাদের অনুসারীরা। এই মূহুর্তে সঠিক দ্বীন ইসলামকে রক্ষায় অসীম সাহস নিয়ে দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রত্যেক মুসলামানদের কাজ করতে হবে। পরিশেষে বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দোলার ২৬৬তম শাহাদাতের মর্যাদা বাঙ্গালী জাতিকে অবিস্মরনীয় রাখার উদার্থ আহবান জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত করেন শাহ্ সুফী আল্লামা মহিউদ্দিন শাহ্ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রহঃ) সুযোগ্য বড় ছাহেবজাদা মুহাদ্দিস আল্লামা মনিরুল মন্নান আল মাদানী (মাঃজিঃআঃ)।

আরও পড়ুন