সর্বশেষ

সরকারের উপকারভোগী ৩ কোটি মানুষকে দলে টানতে পারলে নৌকার বিজয় অবধারিত-আ. জ. ম নাছির

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে একটি অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এরা দেশীয় ও বিদেশী লুটেরাদের ইন্দনদাতা। এই অপশক্তিটি ধর্মের নামে অধর্ম করে এবং মানবতার নামে অমানবিকতার চর্চা করে। এই অপশক্তি বিদেশী মুরুব্বীর গ্রীণ সিগন্যাল পেয়ে আবার লাফালাফি শুরু করেছে। এদের ঐ পরাক্রমশালী মুরুব্বীর গালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থ চপেটাঘাত করেছেন। এতেই তাদের দেশীয় এজেন্ডরা ভয় পেয়ে উল্টাপাল্টা পাগলের প্রলাব বকছেন। তাদের এই পাগলামি বন্ধ করতে আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরাই যথেষ্ট। কারণ তাদের প্রতি জনগনের ভালবাসা ও আস্থা আছে। তিনি আজ সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে যমুনা স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসেনি, আসবেও না। জনগণ যখনই চাইবে তখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেছে, আছে ও থাকবে। এই সত্যটি আমরা অন্তর থেকে ধারণ করি। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকে দেশের ৩ কোটি মানুষকে নানাভাবে সরাসরি আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়েছে। এই ৩ কোটি উপকার ভোগীর মধ্যে যারা চট্টগ্রাম নগরীর ৩টি এবং শহর সংলগ্ন ৩টি আসনসহ মোট ৬টি আসনে বসবাস করেন যেসকল সরকারিভাবে উপকারভোগী আছেন তাদেরকে যদি আমরা দলের সদস্য এবং দলীয় সমর্থন আদায় করতে পারি তাহলে আগামী দ্বাদশ জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ৬টি আসনে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

এছাড়াও বিগত বছরগুলোতে বর্তমান সরকারের যে সাফল্য ও অর্জনগুলোর প্রাপ্তি ঘটেছে তার বৃত্তান্ত ভোটারদের কাছে এখন থেকেই তুলে ধরে তাদের মন জয় করে নিতে হবে। উদ্বোধকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এবং চাঁন্দগাও থানা আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক সিটি মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উন্নয়ন হয়েছে হচ্ছে এবং হবেই। এই উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে সাধারণ মানুষকে যুক্তিসংগত কারণে কিছুটা দুর্ভোগও পুহাতে হয়। এটাই হল বাস্তবতা। তবে উন্নয়ন কর্মকান্ড যাতে দ্রুত হয় জনগণের সমস্যা যাতে লাঘব হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলোর পারস্পরিক বুঝাপরা ও পারস্পরিক সমঝোতা ও সমন্বয় সাধন প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের অংশ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি বলেছেন, কর্ণফূলী নদীর উপর কালুরঘাট রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণকাজ অবশ্যই সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রী এই সেতু পুনঃনির্মাণে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ ও সম্মতি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কোন প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ কখনো ব্যর্থ হয়নি এবং হবে না। এই সেতুটি জনগণের প্রাণের দাবী। এই দাবী পূরণ হবেই। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী নির্বাহী সদস্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, ৭১ সালে যে পরাক্রমশালী দেশটি মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি আমাদের বিরোধীতা করেছিল সেই দেশটি আবার আমাদের দিকে লোলুপ দৃষ্টি ফেলেছে। ঐ দেশটির জানা উচিত আমরা ৭১ সালের বিজয়ী শক্তি ছিলাম। তাই তাদের হুঁমকিকে তোয়াক্কা না করার হিম্মত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আছে এবং তিনি তা দেখিয়েছেন।

৬নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মোঃ মঞ্জুর হোসাইন, আনোয়ার হোসেন বাবুল, আবুল কালাম, ইউনিট আওয়ামী লীগের মোঃ সালাউদ্দিন, হাছান মুরাদ জকু, মোঃ আলমগীর। সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন এড. ধৃতিমান আইচ। সম্মেলনমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য চন্দন ধর, মসিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মোঃ হোসেন, জোবাইরা নার্গিস খান, দিদারুল আলম চৌধুরী, হাজী আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য বখতেয়ার উদ্দীন খান, মোঃ জাবেদ, হাজী বেলাল আহমদ প্রমুখ। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে মোঃ শামসুল আলমকে সভাপতি এবং বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় আশরাফুল আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন। সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। কোরআন তেলওয়াত ও বঙ্গবন্ধুসহ প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আরও পড়ুন