সর্বশেষ

ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে ওয়াগনার গ্রুপ, অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ান ভাড়াটে সংগঠন ওয়াগনার গ্রুপ ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- গ্রুপটির সেনাদের কাছে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। শনিবার রুশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ এক বিদ্রোহ করার পর ওয়াগনার গ্রুপের পক্ষ এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সোমবার বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের পোস্ট করা রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত ওই বিবৃতিতে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম হস্তান্তর কারার ঘোষণা দেয়া হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয় নি।

এর আগে টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক অডিও বার্তায় ওয়াগনার গ্রুপের নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোশিন দাবি করেছিলেন যে, তাদের বিদ্রোহের সময় ‘একজন সেনাও নিহত হয়নি।’ তবে তাদের সৈন্যরা গুলি করে একটি সামরিক বিমান ফেলে দেয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঐ রুশ সামরিক বিমানটি তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছিল।

এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর সক্রিয় ইউনিটগুলোতে পিএমসি ‘ওয়াগনার’ ভারী সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করবে। এ বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।

ওয়াগনার গ্রুপের কাছে বর্তমানে ট্যাংক, অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট সিস্টেম, অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফটের মত ভারী অস্ত্রসহ নিয়মিত সেনাবাহিনীর মতোই অস্ত্র রয়েছে। এই অস্ত্রগুলোর কিছু শনিবারের বিদ্রোহের সময় ওয়ানগার সেনারা ব্যবহার করেছিল।

এদিকে ওয়াগনার গ্রুপের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা তুলে নিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস বলেছে, গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ওয়াগনার বিদ্রোহের চেষ্টা করলে তাদের নামে একটি ফৈজদারি মামলা হয়। এবার মামলাটি তুলে নেয়া হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি বলেছে, মামলাটি বাদ দেয়া হয়েছে। কারণ বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।

শনিবার ভোরে দলটির প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের নেতৃত্বে রুশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ওয়াগনারের সৈন্যরা শনিবার রোস্তভ-অন-দন শহরে প্রবেশ করে এবং আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড কার্যালয়ের দখল নেয়। এ বিদ্রোহের মস্কো অভিমুখে যাত্রার সময় রাশিয়ার দুটি শহর নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন