পহেলা জুলাই ১০৩ বছরের পদার্পণ করবে দেশের উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের এই দিনেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। সে কারণে প্রতি বছর এ দিনটি পালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়’।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তন (টিএসসি) সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোভাযাত্রা সহকারে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। স্মৃতি চিরন্তন চত্বর থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ পায়রা চত্বরে গমন করবেন।
সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন, পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো, কেক কাটা এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়’ নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন উপলক্ষে ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে। উপাচার্য ভবন, কার্জন হল, কলা ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও সড়কসমূহে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ এবং রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহে সাজ-সজ্জার দৃশ্য চোখে পড়ছে। তবে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় এখন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেকটা নেই বললেই চলে। ফলে এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনেকটাই বর্ণ হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামীকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নীলক্ষেত ও ফুলার রোড থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়ে জনসাধারণের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করছে।
