সর্বশেষ

আদালত থেকে হাসপাতালে মোশাররফের ভাই বাবর

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবর হাজিরা দিতে এসে আদালতের হাজতখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

হাজতখানার ইনচার্জ সাদিকুল ইসলাম জানান, বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জ জেলখানা থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে এ মামলার আসামি বাবর ও এএইচএম ফুয়াদকে আদালত চত্বরে আনা হয়। এরপর তাদেরকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি (বাবর) অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত ২২ জুন মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেসাম হোসেন বাবর, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

অভিযোগপত্রে অন্য আসামিরা হলেন- ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, আসিকুর রহমান ফারহান, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম।

আজ (৫ জুলাই) এই সম্পূরক অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকার ৯ নম্বর মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান। বিকালে বিচারক আদেশ দিতে পারেন বলে জানান এ আদালতের পেশকার শরীফুল ইসলাম। বিচারক আগামী ২৩ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে রেখেছেন বলেও জানান শরীফুল।

২০২০ সালের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লাবাড়ী সড়কে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলা হয়। পরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তিনি। ওই ঘটনায় ৭ জুন রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বরকত ও রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অর্থপাচারের খবর বেরিয়ে আসতে থাকে।

২০২০ সালের ২৬ জুন অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে বরকত ও তার ভাই রুবেলকে প্রধান আসামি করে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা করে সিআইডি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি, নন–এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। এ টাকার উল্লে­খযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন তারা।

এতে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুন এসএম মিরাজ এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মধ্যে এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

আরও পড়ুন